মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ: নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার আলটিমেটাম দিল ভারত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিরতা এবং সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় ইরানে অবস্থানরত নিজ দেশের সকল নাগরিককে অবিলম্বে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ভারত। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MEA) এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কঠোর নির্দেশনা জারি করে।
জরুরিভিত্তিতে ফেরার আহ্বান
নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে ইরান থেকে সীমিত পরিসরে কিছু আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু রয়েছে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আগেই যেন ভারতীয়রা এই ফ্লাইটগুলো ব্যবহার করে দ্রুত স্বদেশে ফিরে আসেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, পর্যটক এবং সেখানে কর্মরত পেশাজীবীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফেরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নতুন ভ্রমণে কঠোর নিষেধাজ্ঞা
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো ভারতীয় নাগরিক যেন ব্যক্তিগত বা দাপ্তরিক কোনো কারণেই ইরান ভ্রমণে না যান। যারা ইতিমধ্যে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন বা টিকিট কেটেছিলেন, তাদের যাত্রা স্থগিত করতে বলা হয়েছে।
নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা ও কূটনৈতিক তৎপরতা
তেহরানের ভারতীয় দূতাবাস একটি বিশেষ হেল্পলাইন চালু করেছে। ইরানে অবস্থানরত আনুমানিক কয়েক হাজার ভারতীয় নাগরিকের অবস্থান এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দূতাবাস স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন:
“আমরা পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছি। আকাশপথ যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে, তাই দেরি না করে নাগরিকদের এখনই ফিরে আসা উচিত।”
প্রেক্ষাপট: কেন এই সতর্কতা?
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী দেশগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার হুমকি এবং সামরিক মহড়া ওই অঞ্চলের আকাশপথকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। বিশেষ করে ইসরায়েল-ইরান উত্তজনা ও লোহিত সাগরে অস্থিরতার প্রভাবে ভারত তার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না। ভারতের আগে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সও তাদের নাগরিকদের জন্য একই ধরনের সতর্কতা জারি করেছে।
আটকে পড়াদের জন্য নির্দেশনা
যারা এখনই ফিরতে পারছেন না, তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে এবং জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
সূত্র: ডিএনএ ইন্ডিয়া
এমটিআই

