ইরান যুদ্ধ কতদিন? নেতানিয়াহুর সঙ্গে ‘যৌথ সিদ্ধান্তে’ ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবেন ট্রাম্প।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৯ মার্চ, ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের মেয়াদ এবং এর ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে নতুন বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ কতদিন চলবে বা কখন শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্ত একা ওয়াশিংটন নেবে না; বরং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ‘যৌথভাবে’ এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নেতানিয়াহুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়
সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমরা (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) একসঙ্গে কাজ করছি। এই যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত হবে পারস্পরিক। আমি সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেব, তবে প্রতিটি বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।”
যদিও হোয়াইট হাউস সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, এই অভিযান ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে, তবে ট্রাম্প নিজে কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বা ‘ডেডলাইন’ বেঁধে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকতে পারে।
অভিযানের লক্ষ্য ও বর্তমান পরিস্থিতি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে ট্রাম্প তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন:
১. ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ নির্মূল করা।
২. তেহরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল সক্ষমতা ধ্বংস করা।
৩. মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ‘প্রক্সি’ নেটওয়ার্ক বা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কোমর ভেঙে দেওয়া।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, গত কয়েক দিনের হামলায় ইরানের নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশটিতে নেতৃত্ব সংকটের যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাকে ইরানি জনগণের জন্য ‘দেশ ফিরে পাওয়ার বড় সুযোগ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
ইসরায়েলের প্রভাব ও যুদ্ধ বিরতি
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গভীর প্রভাবের প্রতিফলন ঘটেছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইসরায়েল যদি মনে করে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরও অভিযানের প্রয়োজন, তবে যুক্তরাষ্ট্র সেই পথেই হাঁটবে। তবে তিনি এও যোগ করেছেন যে, ইরান যদি ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ না করে, তবে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই।
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া
এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সরাসরি যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ ও বিশ্ব শক্তিগুলো। ইতোমধ্যে ইরানের নতুন নেতৃত্ব হিসেবে মোজতবা খামেনির নাম আসার পর ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া কোনো নেতৃত্বই সেখানে টিকবে না।
অন্যদিকে, লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরে তেলের ট্যাংকার চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। তবে ট্রাম্পের সাফ কথা, “আমরা এই যুদ্ধ শুরু করতে চাইনি, কিন্তু আমরাই এটি শেষ করব—এবং তা হবে আমাদের শর্তে।”

