বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, সরকার গণভোটের রায় উপেক্ষা করে দেশকে সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ঢাকা: বর্তমান সরকার জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত গণভোটের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দেশকে এক গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল।
আজ এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে আয়োজিত এই সভায় তিনি সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন।
জনমতের অমর্যাদা
নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “একটি গণতান্ত্রিক দেশে জনগণের রায়ই শেষ কথা। কিন্তু আমরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে লক্ষ্য করছি যে, সরকার সাধারণ মানুষের পালস বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। দেশের মানুষ যে পরিবর্তন চায় এবং গণভোটের মাধ্যমে যে রায় দিয়েছে, তা উপেক্ষা করা হচ্ছে। এর ফলে জাতীয় জীবনে অস্থিরতা বাড়ছে এবং দেশ ক্রমশ একটি অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।”
সংকটের মুখে দেশ
বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশে এখন সুশাসনের চরম অভাব বিরাজ করছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তাহীনতা এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়নের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ। তিনি বলেন, “সরকার যখন জনমতকে তোয়াক্কা করে না, তখন দেশ সংকটে পড়তে বাধ্য। আজ অর্থনীতি থেকে শুরু করে বিচার বিভাগ—সবখানেই এক ধরণের অচলবস্থা তৈরি হয়েছে।”
গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান
জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা দাবি করেন, একটি দেশ তখনই স্থিতিশীল থাকে যখন সেখানে সুষ্ঠু নির্বাচন এবং জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়। তিনি সরকারকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আগেই গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে এবং সকল প্রকার বিভেদ ভুলে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংকট সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
সভায় জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। তারা দেশব্যাপী চলমান নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধের জোর দাবি জানান এবং আগামী দিনের আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ থাকার শপথ গ্রহণ করেন।

