- জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশের ওপর জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিধি ৬২ আলোচনাকালে আইনমন্ত্রী বক্তৃতায় সংসদের বিরোধী দলের নেতার বক্তব্যকে মিসকোট করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন শফিকুর রহমান।
জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশের ওপর আলোচনাকালে আইনমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলীয় সদস্য শফিকুর রহমান। তার দাবি, বিধি ৬২ অনুযায়ী জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার সময় আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যকে ভুলভাবে উদ্ধৃত (মিসকোট) করেছেন।
মূল ঘটনা ও অভিযোগ
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে শফিকুর রহমান এই অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান, জুলাই জাতীয় সনদ বা সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশের ওপর যখন আলোচনা চলছিল, তখন আইনমন্ত্রী তার সমাপনী বক্তব্যে বিরোধী দলের নেতার পূর্ববর্তী কিছু মন্তব্যের অবতারণা করেন।
শফিকুর রহমান বলেন:
”মাননীয় স্পিকার, আইনমন্ত্রী মহোদয় তার বক্তব্যে আমার কথার যে প্রেক্ষাপট টেনেছেন, তা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। আমি যা বলিনি, তিনি তা আমার ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। সংসদের কার্যবিবরণীতে আমার মূল বক্তব্য সংরক্ষিত আছে, যা মন্ত্রীর দেওয়া উদ্ধৃতির সঙ্গে মেলে না। এটি আমাকে জনসমক্ষে হেয় করার
শমিল।”
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু: বিধি ৬২
উল্লেখ্য যে, কার্যপ্রণালী বিধির ৬২ ধারা অনুযায়ী জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার সময় সদস্যরা নির্দিষ্ট বিষয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। শফিকুর রহমানের দাবি, তিনি যখন সংবিধান সংস্কারের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে কথা বলছিলেন, তখন আইনমন্ত্রী তার রাজনৈতিক অবস্থানের ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করেছেন যা শফিকুর রহমান তার মূল বক্তব্যে বলেননি।
প্রতিক্রিয়াহীন সংসদ
শফিকুর রহমানের এই অভিযোগের সময় সংসদে কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করলেও আইনমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো পাল্টা মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিরোধী দলীয় সদস্যরা টেবিল চাপড়ে শফিকুর রহমানের এই প্রতিবাদকে সমর্থন জানান। তারা স্পিকারের কাছে দাবি জানান যেন আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে ‘এক্সপাঞ্জ’ বা সংশোধন করা হয়।

