দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিজেদের ২৭০ বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। বাংলাদেশি অর্থে যা প্রায় ৩৩ লাখ কোটি টাকার সমান।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলায় নিজেদের অবকাঠামো ও অর্থনীতির অপূরণীয় ক্ষতির কথা জানিয়েছে ইরান। দেশটির সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহের সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৩ লাখ কোটি টাকারও বেশি।
ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান
ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি রুশ গণমাধ্যম রিয়া নোভোস্তিকে (RIA Novosti) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, এটি একটি প্রাথমিক খসড়া হিসেব এবং যুদ্ধের প্রকৃত ক্ষত আরও গভীর হতে পারে। এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে রয়েছে:
- অবকাঠামো: বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শিল্প কারখানা এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন।
- বেসামরিক সম্পদ: আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
- পরোক্ষ ক্ষতি: শিল্প উৎপাদন বন্ধ হওয়া এবং জাতীয় রাজস্ব আহরণে ব্যাপক ধস।
আন্তর্জাতিক মহলে ক্ষতিপূরণের দাবি
তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি তারা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পর্যায়ে গুরুত্বের সাথে তুলছে। বিশেষ করে সম্প্রতি ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনাতেও ইরান যুদ্ধের এই ক্ষতিপূরণ (War Reparations) আদায়ের দাবি জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বিভিন্ন ফোরামে বলেছেন, ইরানের ওপর চালানো এই ধ্বংসযজ্ঞের পূর্ণ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা ছাড়া আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়।
প্রেক্ষাপট ও মানবিক সংকট
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ সংঘাতের জেরে ইরানে মানবিক সংকট তীব্রতর হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে এবং হাজার হাজার পরিবার গৃহহীন হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ৩৩ লাখ কোটি টাকার এই বিশাল আর্থিক বোঝা ইরানের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
এদিকে, এই ক্ষয়ক্ষতির বিপরীতে ইরানও পাল্টা প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে পারস্য উপসাগরে বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানার হুমকি দিয়ে আসছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
The Current News 24 সত্যের সন্ধানে সারাক্ষণ

