গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেসব জাহাজ পার হবে তাদের আগে থেকেই টোল পরিশোধ করতে বলেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। আর এ টোল ক্রিপ্টো কারেন্সি বা চীনের মুদ্রা ইউয়ানে দিতে হবে বলেও জানিয়েছে বিপ্লবী গার্ড।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | তেহরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী প্রতিটি জাহাজের ওপর টোল আরোপ করার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পথ ব্যবহার করতে হলে জাহাজগুলোকে এখন থেকে আগেভাগেই টোল পরিশোধ করতে হবে।
তবে এই টোল আদায়ের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ শর্ত জুড়ে দিয়েছে তেহরান। টোলের অর্থ কোনোভাবেই ডলারে পরিশোধ করা যাবে না; বরং এটি দিতে হবে ক্রিপ্টোকারেন্সি অথবা চীনের মুদ্রা ‘ইউয়ান’-এ। মূলত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও ডলারের আধিপত্য এড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতেই ইরান এই কৌশল গ্রহণ করেছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
কেন এই টোল আরোপ? আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণের খরচ মেটাতেই এই টোল নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, প্রতি ব্যারেল তেলের ওপর ১ ডলার হারে এই টোল নির্ধারণ করা হতে পারে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
আন্তর্জাতিক প্রভাব বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী এই সরু জলপথটি পারস্য উপসাগরের দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে টোল বসানোর সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌ-পরিবহন সংস্থাগুলোর মধ্যে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং ইউয়ানে অর্থ পরিশোধের বিষয়টি বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল আইনের পরিপন্থী হিসেবে দেখছে কি না, তা নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই নতুন নিয়ম কার্যকর থাকবে বলে ইরানের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

