ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের একটি এক্সপোস্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে ফোর্বস সংশয় প্রকাশ করেছে যে শেহবাজ শরিফের এক্সপোস্টগুলো কি তিনি নিজেই লেখেন না কি পাকিস্তানের বাইরে থেকে সেগুলো লেখা হয়?
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যকার সাম্প্রতিক যুদ্ধকালীন উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। তবে এবার তার ব্যক্তিগত ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে করা পোস্টগুলো নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে প্রভাবশালী মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে ফোর্বস এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, শাহবাজ শরীফের এক্স পোস্টগুলো কি তিনি নিজে লেখেন, নাকি পাকিস্তানের বাইরে অন্য কেউ তার হয়ে এগুলো লিখে দেন?
ফোর্বসের প্রতিবেদনে কী বলা হয়েছে?
ফোর্বসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংকটের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে শাহবাজ শরীফ যে ধরনের অত্যন্ত নিখুঁত এবং সময়োপযোগী বার্তা ‘এক্স’-এ শেয়ার করছেন, তা সাধারণ কোনো রাজনৈতিক পোস্টের চেয়ে অনেক বেশি পেশাদার ও কৌশলগত।
বিশেষজ্ঞরা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে:
-
অবস্থানগত রহস্য: পোস্টগুলোর আইপি অ্যাড্রেস এবং ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট অনেক ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সীমানার বাইরে থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
-
ভাষাগত নিখুঁততা: বার্তার ভাষা এবং শব্দচয়ন অত্যন্ত উচ্চমানের, যা কোনো নির্দিষ্ট ডিজিটাল এজেন্সি বা বিদেশের কোনো বিশেষজ্ঞ দল লিখে থাকতে পারে বলে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে।
-
দ্রুত প্রতিক্রিয়া: কোনো বড় আন্তর্জাতিক ঘটনার কয়েক মিনিটের মধ্যেই যে ধরনের বিশ্লেষণধর্মী পোস্ট তার অ্যাকাউন্ট থেকে আসছে, তা এককভাবে একজন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সব সময় সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা ও বিতর্ক
ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ও ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনা প্রশমনে শাহবাজ শরীফের কূটনৈতিক ভূমিকা যখন বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে, ঠিক তখনই ফোর্বসের এই প্রতিবেদনটি নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিল। প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে—যদি পাকিস্তানের বাইরে থেকে এই পোস্টগুলো করা হয়, তবে কি পর্দার আড়ালে অন্য কোনো দেশের বিশেষ লবিস্ট বা সংস্থা কাজ করছে?
বিশেষজ্ঞদের মতামত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বনেতাদের অ্যাকাউন্ট সাধারণত তাদের পিআর টিমই পরিচালনা করে। তবে ফোর্বস বলছে, শাহবাজ শরীফের ক্ষেত্রে বার্তার ধরন এবং ডিজিটাল লোকেশন কিছুটা অস্বাভাবিক, যা ইঙ্গিত দেয় যে তার ডিজিটাল ডলিপ্লোমেসি বা কূটনীতির নিয়ন্ত্রণ হয়তো পুরোপুরি পাকিস্তানের হাতে নেই।
সরকারের প্রতিক্রিয়া
এই প্রতিবেদন নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পাকিস্তান সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তার ডিজিটাল টিমের মাধ্যমেই সব বার্তা প্রকাশ করেন এবং এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
ফোর্বসের এই সংশয় আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ করে ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। শাহবাজ শরীফের মধ্যস্থতার সাফল্য ছাপিয়ে এখন তার ‘ডিজিটাল কন্ট্রোল’ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে।

