গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা জাহাজ থেকে টোল নেওয়ার ব্যবস্থা করছে ইরান। ইতিমধ্যে দেশটি বিষয়টি কার্যকর করেছে বলেও শোনা গেছে। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করেছিলেন এক সাংবাদিক। তিনি প্রশ্ন করেন, ইরান হরমুজ থেকে টোল নেবে এমন কোনো চুক্তিতে তিনি রাজি হবেন কি না।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ওয়াশিংটন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ইরানের টোল আদায়ের পদক্ষেপকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি পাল্টা দাবি করেছেন, এই অঞ্চলে সামরিকভাবে জয়ী হওয়ার সুবাদে টোল আদায়ের অধিকার কেবল যুক্তরাষ্ট্রেরই আছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য
সোমবার (৬ এপ্রিল, ২০২৬) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন— ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজ থেকে টোল নেওয়ার যে ব্যবস্থা করছে, তাতে তিনি একমত কি না। জবাবে ট্রাম্প স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলেন, “ইরানকে কেন টোল দিতে দেব? বরং আমরাই কেন টোল নেব না?”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরাই তো জয়ী। আমরা তাদের (ইরানকে) সামরিকভাবে পরাজিত করেছি। তাহলে টোল কেন তারা নেবে? আমি বরং এটি নিজেই করতে চাইব।”
ইরানের টোল আদায়ের ঘোষণা
গত মাসের শেষদিকে ইরানের সংসদীয় কমিশন হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ‘সার্বভৌমত্ব প্রয়োগের’ অংশ হিসেবে টোল আদায়ের একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করে। জানা গেছে, ইতিমধ্যে অন্তত দুটি জাহাজ থেকে ইরান প্রায় ২০ লাখ ডলার সমপরিমাণ অর্থ (চীনা ইউয়ানে) টোল হিসেবে আদায় করেছে। ইরান দাবি করছে, এই প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে বিপুল ব্যয় হয়, তা মেটাতেই এই ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
হুঁশিয়ারি ও সময়সীমা
ট্রাম্প কেবল টোলের বিরোধিতা করেই ক্ষান্ত হননি, তিনি ইরানকে ৭ এপ্রিল (মঙ্গলবার) রাত ৮টা পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালী মুক্ত যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত না করা হলে এবং কোনো চুক্তিতে না পৌঁছালে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষায়, “আমরা চাইলে মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে সব ধ্বংস করে দিতে পারি, তবে আমরা সেটা করতে চাই না।”
বিশ্ব বাজারে অস্থিরতা
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এই পথে টোল আদায় এবং ট্রাম্পের হুমকির ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। দক্ষিণ এশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, যে কোনো চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হতে হবে “তেলবাহী জাহাজের অবাধ চলাচল”। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে।

