ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের স্থল অভিযান চালাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নির্দেশ দেশটির এক ডজন জ্যেষ্ঠ জেনারেল অমান্য করায় যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে। হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে ইরানে অভিযান ঘিরে ব্ভিাজন তৈরি হওয়ায় ওই সংকট তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ওয়াশিংটন ডি.সি.
ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের স্থল অভিযান চালানোর লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া সরাসরি নির্দেশ অমান্য করেছেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্তত এক ডজন জ্যেষ্ঠ জেনারেল। হোয়াইট হাউস এবং পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে এই নজিরবিহীন বিরোধের জেরে যুক্তরাষ্ট্রে এক ভয়াবহ সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত:
পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের স্পর্শকাতর স্থাপনা ও কৌশলগত এলাকা লক্ষ্য করে বড় আকারের স্থল হামলার নির্দেশ দেন। কিন্তু দেশটির এক ডজন শীর্ষস্থানীয় জেনারেল এই নির্দেশ পালনে আপত্তি জানান। তাদের মতে, পর্যাপ্ত কৌশলগত কারণ ছাড়া এমন অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী এবং ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের সূচনা করবে, যা মার্কিন স্বার্থের পরিপন্থী।
নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট:
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট সশস্ত্র বাহিনীর ‘কমান্ডার-ইন-চিফ’। তার নির্দেশ অমান্য করা সামরিক আইনে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। তবে জেনারেলদের যুক্তি, এই নির্দেশ অপরিপক্ব এবং এর ফলে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘিত হতে পারে। সামরিক বাহিনীর এই অনড় অবস্থানের কারণে হোয়াইট হাউসের নির্বাহী ক্ষমতা এবং সামরিক চেইন অব কমান্ডের মধ্যে সরাসরি সংঘাত তৈরি হয়েছে, যাকে বিশ্লেষকরা দেশটির ইতিহাসের ‘নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট’ বলে অভিহিত করছেন।
বিভক্ত হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন:
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের ক্ষমতাধর দুই বলয় এখন কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, জেনারেলরা প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করছেন, যা অবাধ্যতার শামিল। অন্যদিকে, পেন্টাগনের একটি বড় অংশ মনে করছে, আবেগের বশবর্তী হয়ে বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এমন কোনো যুদ্ধে জড়ানো উচিত হবে না যার কোনো স্পষ্ট ‘এক্সিট স্ট্র্যাটেজি’ বা প্রস্থানের পথ নেই।
বৈশ্বিক উদ্বেগ:
বিশ্বের দুই ক্ষমতাধর শক্তির এই সংঘাত এবং মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ ফাটল আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ইউরোপীয় মিত্ররা এই পরিস্থিতিতে সংযত থাকার আহ্বান জানালেও তেহরান থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো ধরনের উসকানি বা হামলার দাঁতভাঙা জবাব দিতে তারা প্রস্তুত।
ভবিষ্যৎ পরিণতি:
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বিদ্রোহী জেনারেলদের বরখাস্ত করবেন নাকি সামরিক নেতৃত্বের চাপে নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এই সংকট যদি দ্রুত নিরসন না হয়, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাঠামোগত স্থিতিশীলতা এবং বিশ্বজুড়ে দেশটির প্রভাব মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

