নৌবাহিনীর সহায়তায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে ট্যাংকার জাহাজ নেওয়ার দাবি করে এক্সে পোস্ট করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস ওয়েট। তবে কিছুক্ষণ পর তিনি তার সেই পোস্ট আবার ডিলিট করে দিয়েছেন।
হরমুজ প্রণালীতে নৌ-সুরক্ষার দাবি করে পোস্ট মুছে দিলেন মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী
ওয়াশিংটন ডিবি | আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস ওয়েট এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি বিতর্কিত পোস্ট মুছে দিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। ওই পোস্টে তিনি দাবি করেছিলেন যে, মার্কিন নৌবাহিনীর সরাসরি সহায়তায় অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে নিরাপদভাবে জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজ পার করা হচ্ছে। তবে পোস্ট করার কিছুক্ষণের মধ্যেই কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই সেটি ডিলিট করে দেওয়া হয়।
কী ছিল সেই পোস্টে?
ক্রিস ওয়েট তার পোস্টে লিখেছিলেন যে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা বজায় রাখতে মার্কিন নৌবাহিনী সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তিনি নির্দিষ্ট করে হরমুজ প্রণালীর কথা উল্লেখ করে জানান, মার্কিন সামরিক সুরক্ষায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্যাংকার ওই এলাকা অতিক্রম করেছে। পোস্টের সাথে একটি ছবিও ছিল যেখানে একটি রণতরীকে বড় জাহাজের পাশে অবস্থান করতে দেখা যায়।
পোস্ট ডিলিট করার সম্ভাব্য কারণ
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পোস্টটি সরিয়ে ফেলার পেছনে কয়েকটি কৌশলগত কারণ থাকতে পারে:
- নিরাপত্তা ঝুঁকি: সামরিক অভিযানের সুনির্দিষ্ট তথ্য বা জাহাজের অবস্থান প্রকাশ করা নৌবাহিনীর নিরাপত্তা প্রোটোকলের বিরোধী হতে পারে।
- কূটনৈতিক উত্তেজনা: হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম স্পর্শকাতর জলপথ, যার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এই ধরণের ঘোষণা ওই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
- ভুল তথ্য বা সমন্বয়হীনতা: হতে পারে জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং পেন্টাগনের (প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়) মধ্যে তথ্যের কোনো অসামঞ্জস্য ছিল, যার ফলে পোস্টটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়।
হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ওমান এবং ইরানের মধ্যবর্তী এই প্রণালীটি বন্ধ হয়ে গেলে বা সেখানে অস্থিরতা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রণালয় বা হোয়াইট হাউস থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা থামছে না। অনেক ব্যবহারকারী ডিলিট করা পোস্টটির স্ক্রিনশট শেয়ার করে প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

