সম্প্রীতি ও সংহতির আহ্বান: বিশিষ্টজনদের সম্মানে ছাত্রশিবিরের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ৬ মার্চ, ২০২৬
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে এক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানী ঢাকার একটি মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বরেণ্য শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ
ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি ও বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের প্রথিতযশা কলামিস্ট, সাবেক আমলা এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা এই আয়োজনে সংহতি প্রকাশ করেন।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতির বক্তব্য
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “আমরা একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মকে সাথে নিয়ে কাজ করছি। আজকের এই ইফতার মাহফিল কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি দেশের বিশিষ্টজনদের সাথে ছাত্রসমাজের এক সেতুবন্ধন তৈরির প্রয়াস।” তিনি দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে জাতীয় ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বিশিষ্টজনদের প্রতিক্রিয়া
আমন্ত্রিত অতিথিরা তাদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ। মেধা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ছাত্রসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
আয়োজনের উদ্দেশ্য
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিভিন্ন মত ও পথের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখাই ছিল এই ইফতার মাহফিলের মূল লক্ষ্য। রমজানের পবিত্রতাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয় এই মিলনমেলায়।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় বেনিফিশিয়ারি হলো বিএনপি। বিগত সময়ে তারা প্রায় রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়ে তারা এখন সেই অভ্যুত্থানের সঙ্গেই গাদ্দারি করছে। তারা জনগণের ম্যান্ডেটের তোয়াক্কা না করে গণভোটের রায়কে প্রত্যাখ্যান করার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ পুনরায় দেশে আস্ফালন দেখাতে শুরু করেছে। সহস্রাধিক মানুষকে হত্যা করার পরও তারা আবার দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তাদের রাজনীতিতে পুনর্বাসনের মাধ্যমে এই সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে।
তিনি বদর দিবসে শহীদদের স্মরণ করে বলেন, বদরের শিক্ষা ধারণ করে আগামী দিনে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সংগ্রামকে আরও জোরদার করতে হবে।
জেইউ/এমএন

