মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা: মার্কিন হামলায় ইরানের সাবমেরিনসহ ১৭ যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৪ মার্চ, ২০২৬
ওয়াশিংটন ডিভিসি: মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ নৌ-সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। আরব সাগর, ওমান উপসাগর এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে গত চার দিনের টানা অভিযানে ইরানি নৌবাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের বিশেষ অভিযানে ইরানের একটি অত্যাধুনিক সাবমেরিন এবং অন্তত ১৭টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে।
অভিযানের নেপথ্যে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুবার এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং উস্কানিমূলক তৎপরতা বন্ধে মার্কিন বাহিনী এই ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলা চালায়।
অ্যাডমিরাল কুবার বলেন:
“গত ৯৬ ঘণ্টায় আমরা আরব সাগর ও এর পার্শ্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছি। এতে ইরানের একটি সাবমেরিন এবং ১৭টি ছোট-বড় যুদ্ধজাহাজ পুরোপুরি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল ওই অঞ্চলের নৌ-নিরাপত্তা বিঘ্নিতকারী হুমকিগুলো অপসারণ করা।”
ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ
সেন্টকমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের ধরণ ছিল অত্যন্ত নিখুঁত:
- সাবমেরিন: ইরানের নৌ-শক্তির অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত একটি সাবমেরিন ওমান উপসাগরের গভীরে শনাক্ত করার পর সেটিকে টর্পেডো ও ড্রোন হামলায় ডুবিয়ে দেওয়া হয়।
- যুদ্ধজাহাজ: ১৭টি যুদ্ধজাহাজের মধ্যে দ্রুতগতিসম্পন্ন অ্যাটাক বোট এবং মিসাইল লঞ্চার সজ্জিত ডেস্ট্রয়ারও রয়েছে।
- অঞ্চল: হামলাগুলো মূলত হরমুজ প্রণালী ও আরব সাগরের কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে চালানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তেলের বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুটে এর বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইরানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বড় কোনো পাল্টা হামলার ঘোষণা না এলেও, তেহরান এই ঘটনাকে ‘সরাসরি আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
পেন্টাগন জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ওই অঞ্চলে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
সূত্র : সিএনএন
এসএমডব্লিউ

