অপারেশন এপিক ফিউরি: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা, বিশাল ব্যয়ভার বহনে কতটা প্রস্তুত ওয়াশিংটন?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৪ মার্চ, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে এক ভয়াবহ ও সরাসরি সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury) ছদ্মনামে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের অভ্যন্তরে ব্যাপক বিমান হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শুরু করেছে। এই অভিযানকে ঘিরে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।
অভিযানের বর্তমান পরিস্থিতি
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) এবং হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানে ইরানের কয়েকশ সামরিক লক্ষ্যবস্তু, পারমাণবিক স্থাপনা এবং আইআরজিসি (IRGC)-এর কমান্ড সেন্টারগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেসিসহ শীর্ষস্থানীয় সামরিক নেতৃত্ব নিহত হয়েছেন। জবাবে ইরানও বসে নেই; তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি এবং প্রতিবেশী কয়েকটি দেশে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আলটিমেটাম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই অভিযান অন্তত চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও দীর্ঘ সময় লড়াই করার সক্ষমতা রাখে। ট্রাম্পের ভাষায়, “ইরানের পারমাণবিক হুমকি চিরতরে নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান চলবে।”
ব্যয়ভার ও মার্কিন অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ
বিশ্লেষকরা এই যুদ্ধের বিশাল অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পেন্টাগন এই অভিযানের জন্য ইতিমধ্যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বাজেট বরাদ্দ করছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে—মার্কিন অর্থনীতি কি এই বাড়তি চাপ নিতে পারবে?
- জ্বালানি তেলের মূল্য: যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) অবরুদ্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে, যার প্রভাব সরাসরি মার্কিন ভোক্তা পর্যায়ে পড়বে।
- প্রতিরক্ষা বাজেট: চার-পাঁচ সপ্তাহের এই অভিযানে উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র (যেমন টমাহক) এবং স্টিলথ ফাইটার জেটের ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যয়কে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।
- অভ্যন্তরীণ ঋণ: যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভ্যন্তরীণ ঋণের বোঝা এই যুদ্ধের কারণে আরও ভারী হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
যুদ্ধের শেষ কোথায়?
মার্কিন যুদ্ধ সচিব (Secretary of War) পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, এই অভিযানের লক্ষ্য নির্দিষ্ট (Laser-focused)—ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস করা এবং তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বন্ধ করা। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই যুদ্ধ শেষ করা কঠিন হতে পারে, যদি ইরান তার প্রক্সি নেটওয়ার্ক (লেবানন, ইরাক ও ইয়েমেন) ব্যবহার করে পাল্টা আঘাত চালিয়ে যায়।
সহায়ক তথ্য: এই সংঘাতের প্রভাবে ইতিমধ্যে বিশ্ব শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে এবং সোনার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ওয়াশিংটন দাবি করছে তারা প্রস্তত, কিন্তু সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে এই নতুন যুদ্ধ নিয়ে সংশয় বাড়ছে।
প্রিবল বলেন, ‘এই ইন্টারসেপ্টরগুলোর কিছু অংশ রাশিয়ার হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনে পাঠানোর কথা ছিল। আবার কিছু অংশ এশিয়ার ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মোতায়েন আছে। ফলে ওই অঞ্চলগুলো থেকে সরিয়ে এই যুদ্ধে সব অস্ত্র ব্যবহার করে ফেলাটা বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে।’
সবশেষে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, আধুনিক এই সমরাস্ত্রগুলো দ্রুত উৎপাদন করা সম্ভব নয়। তিনি যোগ করেন, ‘একটি প্যাট্রিয়ট মিসাইল বা একটি এসএম-৬ অত্যন্ত জটিল প্রযুক্তির সরঞ্জাম। এটি এমন নয় যে চাইলেই দিনে শত শত বা হাজার হাজার উৎপাদন করা সম্ভব। উৎপাদনের গতি মোটেও তেমন নয়।’
সূত্র : আল জাজিরা ও রয়টার্স।
এমএআর/

