মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয়: ইরানের পাল্টা আঘাত ও বৈশ্বিক সংকট
আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের শাসনভার গ্রহণ করেছে একটি জরুরি ‘সুপ্রিম কাউন্সিল’। তাদের নির্দেশে শুরু হওয়া এই পাল্টা হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তুগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. ইসরায়েলের ওপর ‘মিসাইল রেইন’
ইরান তার ভাণ্ডারে থাকা হাজার হাজার ব্যালিস্টিক মিসাইল (ফাত্তাহ, খুররামশাহর) সরাসরি ইসরায়েলের তেল আবিব এবং হাইফা শহরের দিকে নিক্ষেপ করতে শুরু করেছে। লক্ষ্য হলো ইসরায়েলের ‘আয়রন ডোম’ এবং ‘অ্যারো’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ওভারলোড করে মূল অবকাঠামো ধ্বংস করা।
২. মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আক্রমণ (উপসাগরীয় অঞ্চল)
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) কাতার, বাহরাইন এবং কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে শত শত ‘শাহেদ’ ড্রোন পাঠাচ্ছে। বিশেষ করে কাতারের আল-উদাইদ বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এখন সরাসরি আগুনের মুখে।
৩. হরমুজ প্রণালী বন্ধ ও বৈশ্বিক তেলের বাজার
ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ মাইন পেতে এবং মিসাইল বোট দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে:
- বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
- বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ স্থবিরতা বা মন্দা নেমে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
৪. ‘প্রক্সি’ বাহিনীর সর্বাত্মক যুদ্ধ
তেহরানের নির্দেশে লেবানন থেকে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে হাজার হাজার রকেট ছুড়ছে। ইয়েমেনের হুথিরা লোহিত সাগরে মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজে আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। ইরাক ও সিরিয়ার মিলিশিয়ারা স্থানীয় মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে স্থলপথে আক্রমণ শুরু করেছে।
পরবর্তী ধাপ:
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের এই পাল্টা হামলার জবাবে তাদের ‘Second Strike’ বা দ্বিতীয় দফার বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তেহরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো এখন তাদের মূল লক্ষ্য।
ফিলিস্তিনের হামাস ও ইসলামি জিহাদ : গাজা যুদ্ধে হামাস অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবুও তারা গাজার ভেতর থেকে ইসরায়েলি সৈন্যদের ব্যস্ত রাখছে। এটি ইসরায়েলকে দ্বি-মুখী বা ত্রি-মুখী যুদ্ধের চাপে ফেলে দিচ্ছে।
লেখক : এনেস আবুওমর, আল-জাজিরা।
এমএআর/

