ইরানের হামলায় ভূপাতিত হওয়া যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রুকে খুঁজে বের করতে ইরানে প্রবেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সেনারা। স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার রাতে তারা দেশটিতে যান বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে যখন যুদ্ধের দামামা বাজছে, ঠিক তখনই এক দুঃসাহসিক অভিযানে ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ এলিট বাহিনী ‘স্পেশাল ফোর্স’। মূলত ইরানের হামলায় ভূপাতিত হওয়া একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধার করতেই এই গোপন অভিযানে নেমেছে পেন্টাগন।
দ্য টেলিগ্রাফের চাঞ্চল্যকর তথ্য
ব্রিটিশ প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার রাতে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের একটি চৌকস দল ইরানের সীমানা অতিক্রম করে ভেতরে প্রবেশ করে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো নিখোঁজ থাকা ওই ক্রুকে খুঁজে বের করা এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া। তবে ইরানের ঠিক কোন এলাকায় এই অপারেশন চালানো হচ্ছে, তা নিরাপত্তার স্বার্থে প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
কয়েক দিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে সেটির ক্রু নিখোঁজ ছিলেন। ওয়াশিংটনের ধারণা, ওই ক্রু জীবিত থাকতে পারেন এবং তাকে উদ্ধার করতেই এই উচ্চঝুঁকিপূর্ণ মিশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সীমানা লঙ্ঘনের অভিযোগ ও ঝুঁকি
ইরানের মাটিতে মার্কিন সেনার এই অনুপ্রবেশকে তেহরান তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি মার্কিন সেনারা ইরানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে বা সেখানে কোনো সংঘর্ষ বাঁধে, তবে এটি সরাসরি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
থৈ থৈ উত্তেজনা
এখন পর্যন্ত তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুপ্রবেশের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন এই অভিযানের অগ্রগতি নিয়ে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখছে।
“নিখোঁজ সেনাকে উদ্ধারে কোনো সুযোগই হাতছাড়া করবে না যুক্তরাষ্ট্র, তবে সার্বভৌম দেশের ভেতরে এই ধরনের অভিযান পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটাতে পারে।”
— দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে উল্লিখিত এক নিরাপত্তা বিশ্লেষক

