সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে ইরান যুদ্ধ নিয়ে গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে এক বাংলাদেশিসহ ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আমিরাতের পুলিশ। গতকাল রাজধানী আবুধাবি-সহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের।
আবুধাবি
ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব এবং ভুয়া তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এক বাংলাদেশিসহ ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।
গতকাল (রোববার) রাজধানী আবুধাবিসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আমিরাত পুলিশের একটি বিশেষ সাইবার ইউনিট এই অভিযান পরিচালনা করে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা ফেসবুক, টিকটক এবং হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিভ্রান্তিকর ছবি, ভিডিও এবং ভিত্তিহীন তথ্য শেয়ার করছিলেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছিল এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছিল।
প্রশাসনের কড়া হুঁশিয়ারি
আমিরাত সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, দেশের সাইবার আইন অনুযায়ী যে কোনো ধরণের রাষ্ট্রবিরোধী গুজব বা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী তথ্য প্রচার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের বড় অঙ্কের জরিমানা ও কারাদণ্ড, এমনকি সাজা শেষে নিজ দেশে ফেরত (ডিপোর্ট) পাঠানো হতে পারে।
প্রবাসীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা
দেশটির বাংলাদেশ দূতাবাস ও স্থানীয় প্রশাসন প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে:
-
- যাচাইহীন সংবাদ: কোনো সংবাদ বা ভিডিও সঠিক কি না তা নিশ্চিত না হয়ে শেয়ার করবেন না।
- অফিসিয়াল সোর্স: কেবল আমিরাত সরকারের স্বীকৃত নিউজ চ্যানেল বা সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুসরণ করুন।
- মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন: সংবেদনশীল রাজনৈতিক বা সামরিক ইস্যু নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত মতামত বা উসকানিমূলক পোস্ট দেবেন না।
একটি বিশেষ নোট: সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাইবার আইন অত্যন্ত কঠোর। সামান্য একটি ‘শেয়ার’ বা ‘লাইক’ আপনার প্রবাস জীবনের ইতি ঘটিয়ে দিতে পারে। তাই ডিজিটাল প্ল্যাটফরম ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকুন।
গ্রেপ্তারদের ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু হয়েছে— উল্লেখ করে আমিরাতের সরকারি সংবাদমাধ্যম ওয়াম নিউজকে অ্যাটর্নি জেনারেল ড. হামাদ সাইফ আল শামস বলেন, “গ্রেপ্তাররা তাদের সামাজিক যোগাযেগামাধ্যমের অ্যাকাউন্ট এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে এআই দিয়ে তৈরি কৃত্রিম ভূয়া ভিডিও আপলোড করতেন। আমিরাতের সরকার মনে করে— এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু স্থিতিশীলতা নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকি।”
সূত্র : এএফপি
এসএমডব্লিউ।

