ইরানের সঙ্গে আঞ্চলিক যুদ্ধের প্রভাবে নজিরবিহীন ‘ফোর্স ম্যাজেউর’ (অনিবার্য পরিস্থিতিতে চুক্তি পালনে অক্ষম) ঘোষণা এবং জ্বালানি উৎপাদন বন্ধ রাখার পর প্রথম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) কার্গো জাহাজ পাঠাতে শুরু করেছে কাতার। এর মধ্যে একটি জাহাজ গন্তব্য বাংলাদেশের নাম সংকেত হিসেবে পাঠিয়েছে। শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ইরানের সঙ্গে আঞ্চলিক যুদ্ধের উত্তজনা ও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পাঠাতে শুরু করেছে কাতার। নজিরবিহীন ‘ফোর্স ম্যাজেউর’ (অনিবার্য পরিস্থিতি) কাটিয়ে কাতার থেকে এলএনজি নিয়ে একটি কার্গো জাহাজ এখন বাংলাদেশের পথে। শনিবার (৭ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রেক্ষাপট: নজিরবিহীন ‘ফোর্স ম্যাজেউর’
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও এর সহযোগী দেশগুলোর সাথে সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রভাবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম অস্থিরতা দেখা দেয়। এই নিরাপত্তার ঝুঁকিতে কাতার এনার্জি প্রথমবারের মতো তাদের এলএনজি সরবরাহে ‘ফোর্স ম্যাজেউর’ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, যা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির বার্তা
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর কাতার তাদের জাহাজগুলো পুনরায় চালনা শুরু করেছে। ট্র্যাকিং তথ্যানুযায়ী, কাতার থেকে ছেড়ে আসা একটি এলএনজি কার্গো তাদের গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের নাম সংকেত (Destination Signal) পাঠিয়েছে। এটি গত কয়েক সপ্তাহের অচলাবস্থার পর প্রথম কোনো জাহাজ যা দক্ষিণ এশিয়ার এই জ্বালানি সংকটে থাকা দেশের দিকে আসছে।
ফোর্স ম্যাজেউর কী? > এটি চুক্তির এমন একটি ধারা, যা যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা মহামারির মতো অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতিতে কোনো পক্ষকে তাদের প্রতিশ্রুত কাজ বা সরবরাহ স্থগিত রাখার আইনি সুরক্ষা দেয়।
জ্বালানি খাতে প্রভাব
বাংলাদেশের শিল্প উৎপাদন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে এলএনজির গুরুত্ব অপরিসীম। কাতারের এই সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়া দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই জাহাজটি বঙ্গোপসাগরের মহেশখালী টার্মিনালে ভিড়বে।
এর আগে, ইরানের ড্রোন হামলার পর কাতার বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্র রাস লাফান বন্ধ করে দিয়েছিল। ওই হামলার আগেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। অবশ্য পণ্য বোঝাই বা গন্তব্যের বিষয়ে কাতারএনার্জির কোনও মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি।
সূত্র: ব্লুমবার্গ।

