এই প্রথমবার সৌদি আরবের একটি তেলের খনি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করে দিয়েছে সেসব ড্রোন।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | রিয়াদ মধ্যপ্রাচ্যের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রথমবারের মতো সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেলের খনি লক্ষ্য করে সরাসরি ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে সৌদি আরবের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সেই হামলা নস্যাৎ করে দিয়েছে।
হামলার বিবরণ ও লক্ষ্যবস্তু
শনিবার ভোরে সৌদি আরবের একটি প্রধান তেল উৎপাদনকারী অঞ্চলের ওপর দিয়ে বেশ কিছু ড্রোন উড়তে দেখা যায়। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ড্রোনগুলো সরাসরি তেলের খনি এবং জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে ধেয়ে আসছিল। তবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই সৌদির ‘প্যাট্রিয়ট’ মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম ড্রোনগুলোকে মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দেয়।
প্রথমবারের মতো সরাসরি পদক্ষেপ
বিশ্লেষকরা বলছেন, এর আগে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে সৌদি আরবে বিভিন্ন সময়ে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠলেও, এবার সরাসরি ইরানের পক্ষ থেকে এমন পদক্ষেপ একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একে অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছেন।
বিস্ফোরক পরিস্থিতির আশঙ্কা
এই ঘটনার পর সৌদি আরব ও তার মিত্র দেশগুলো তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। রিয়াদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “জ্বালানি স্থাপনায় এ ধরনের হামলা কেবল সৌদি আরবের ওপর নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর আঘাত।” অন্যদিকে, তেহরানের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববাজারে প্রভাব
তেলের খনিতে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোতে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে ইরান।
সূত্র : এএফপি
এসএমডব্লিউ

