ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের ‘যুদ্ধাপরাধের’ অভিযোগ: কাঠগড়ায় ক্লাস্টার বোমা।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | জেরুজালেম মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মাঝে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধের’ অভিযোগ তুলেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, ইরান তাদের হামলায় নিষিদ্ধ ‘ক্লাস্টার বোমা’ বা গুচ্ছ বোমা ব্যবহার করছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
আইডিএফ-এর বিস্ফোরক দাবি
শনিবার এক বিবৃতিতে আইডিএফ জানায়, সম্প্রতি ইরানের পক্ষ থেকে চালানো হামলায় যেসব সমরাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তার মধ্যে ক্লাস্টার বোমার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই ধরনের বোমা একটি বড় এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং এতে সাধারণ নাগরিকদের হতাহত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। আইডিএফ-এর একজন মুখপাত্র বলেন, “বেসামরিক এলাকায় ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করে ইরান সরাসরি জেনেভা কনভেনশন লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধ করছে।”
ক্লাস্টার বোমা কেন বিতর্কিত?
আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী বিশ্বের অধিকাংশ দেশ ক্লাস্টার বোমার ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। কারণ এই বোমাগুলো আকাশ থেকে পড়ার পর অসংখ্য ছোট ছোট বোমায় পরিণত হয়ে বিশাল এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় সব বোমা তাৎক্ষণিকভাবে বিস্ফোরিত হয় না, যা দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষের জন্য মাইন বা মরণফাঁদ হিসেবে রয়ে যায়।
আন্তর্জাতিক মহলে প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা
ইসরায়েলের এই গুরুতর অভিযোগের পর ইরান এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অভিযোগের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই নিষিদ্ধ অস্ত্রের ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারে কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর।
উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি
বেশ কিছুদিন ধরেই ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ছায়াযুদ্ধ এবং সরাসরি ড্রোন-মিসাইল হামলার ঘটনা ঘটছে। ইসরায়েলের এই নতুন অভিযোগ দুই দেশের মধ্যকার বৈরিতা আরও গভীর করবে এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে ইরানকে চাপে ফেলার একটি কৌশল হিসেবেও দেখছেন অনেকে।
সূত্র : এএফপি
এসএমডব্লিউ

