ইরান-ইসরায়েল অভিযানের প্রভাব: যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে গ্যাসের দাম, দিশেহারা গ্রাহক।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৬ মার্চ, ২০২৬
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের রেশ আছড়ে পড়ছে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে গত মাত্র ৬ দিনেই যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি গ্যাসের দাম বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ। বাজার বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, অদূর ভবিষ্যতে এই দাম আরও আকাশচুম্বী হতে পারে।
জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা
মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় যুদ্ধের শুরু থেকেই বিশ্ববাজারে তেলের পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাসের দামেও অস্থিরতা দেখা দেয়। গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ডিস্ট্রিবিউশন পয়েন্টগুলোতে গ্যাসের পাইকারি ও খুচরা মূল্য হু হু করে বাড়ছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা মজুত বাড়াতে শুরু করায় এই কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক সংকট তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্পের ‘বেপরোয়া’ অবস্থান
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জ্বালানি মূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অনেকটা দায়সারা ও কঠোর ভঙ্গিতে বলেন, “গ্যাসের দাম যদি বাড়ে, তো বাড়ুক।” তার এমন মন্তব্য সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। সমালোচকদের মতে, নির্বাচনের আগে এমন মন্তব্য মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ভোটারদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস
জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক সংস্থাগুলোর ইঙ্গিত অনুযায়ী, যদি ইরান-ইসরায়েল সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলো বাধাগ্রস্ত হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গ্যাসের দাম আরও ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এটি কেবল পরিবহন খাতেই নয়, বরং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প কারখানার ব্যয়ের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।
সাধারণ মানুষের উদ্বেগ
৬ দিনে ৭ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধিতে ইতোমধ্যেই হিমশিম খেতে শুরু করেছেন সাধারণ গ্রাহকরা। ওয়াশিংটন ও নিউ ইয়র্কের মতো শহরগুলোতে গ্যাস স্টেশনগুলোতে মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অনেক নাগরিকই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনের বর্তমান পররাষ্ট্র নীতিকে দায়ী করছেন।
নোট: এই প্রতিবেদনটি আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংবাদের আদলে তৈরি করা হয়েছে।
গত ৭ দিন ধরে যুদ্ধ চলছে এবং হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোতে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে ইরান।
সূত্র : সিএনএন, রয়টার্স
এসএমডব্লিউ

