তেহরানে খামেনির বিদায় অনুষ্ঠান স্থগিত: নিরাপত্তাহীনতা না কি জনস্রোতের শঙ্কা?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পূর্বনির্ধারিত রাষ্ট্রীয় বিদায় ও শোক অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) তেহরানের স্থানীয় সময় রাতে এই অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত ঘোষণা করে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম।
স্থগিতের কারণ:
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানে ‘অভূতপূর্ব জনসমাগম’ এবং শোকাতুর মানুষের বিশাল ভিড় সামলানোর জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত প্রস্তুতি না থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানে ক্রমাগত ইসরায়েলি বিমান হামলা এবং শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এমন গোপনীয়তা ও সতর্কতা অবলম্বন করছে ইরান সরকার।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী তেহরানে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী (IAF) এবং মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ অভিযানে ৮৬ বছর বয়সী খামেনি নিহত হন। ‘দ্য এপিক ফিউরি’ (The Epic Fury) নামক এই অভিযানে ইরানের আরও অন্তত ৪০ জন উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ:
- দাফন কোথায়: খামেনির মরদেহ তার জন্মভূমি এবং ইরানের পবিত্র নগরী মাশহাদে দাফন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
- অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব: খামেনির মৃত্যুর পর বর্তমানে তিন সদস্যের একটি ‘অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল’ রাষ্ট্র পরিচালনা করছে।
- আঞ্চলিক উত্তেজনা: ইরাকের শীর্ষ শিয়া ধর্মগুরু গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ আলি সিস্তানি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং একে ‘অন্যায্য যুদ্ধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি:
তেহরানের আকাশে এখনো ইসরায়েলি এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি এবং মাঝেমধ্যেই বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে কাজ করা ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর ভবনটিও হামলার শিকার হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ইরান সরকার জানিয়েছে, বিদায় অনুষ্ঠানের নতুন তারিখ ও সময় পরবর্তীতে জানানো হবে।
নোট: এই প্রতিবেদনটি ৪ মার্চ ২০২৬-এর আন্তর্জাতিক সংবাদ পরিস্থিতির আলোকে তৈরি। সংঘাতপূর্ণ এলাকা হওয়ায় তথ্যের পরিবর্তন ঘটতে পারে।

