ইরানে হামলার জন্য ঘাঁটি না দেওয়ায় স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা ট্রাম্পের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৪ মার্চ, ২০২৬
ওয়াশিংটন: ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় স্পেনের সঙ্গে সব ধরণের বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ-এর সঙ্গে এক বৈঠক চলাকালীন তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টকে স্পেনের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্যিক লেনদেন ও সম্পর্ক বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা স্পেনের সাথে আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না। যারা আমাদের বিপদে সহায়তা করে না, তাদের সাথে আমাদের ব্যবসা করার কোনো প্রয়োজন নেই।”
ঘটনার সূত্রপাত
গত কয়েকদিন ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে। এই অভিযানের জন্য স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত ‘রোটা’ (Rota) নৌঘাঁটি এবং ‘মোরন’ (Moron) বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিল পেন্টাগন। কিন্তু স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই অনুরোধ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন।
স্পেনের অবস্থান
স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসে ম্যানুয়েল আলবারেস জানিয়েছেন, জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক আইনের অনুমোদনহীন কোনো “একতরফা সামরিক অভিযানে” স্পেন নিজেদের সার্বভৌম ভূমি ব্যবহার করতে দেবে না। প্রধানমন্ত্রী সানচেজ এই অভিযানকে “অন্যায্য এবং বিপজ্জনক” হিসেবে অভিহিত করেছেন। স্পেনের এই অনড় অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের অনেকগুলো রিফুয়েলিং বিমান (Tanker Aircraft) স্পেন থেকে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
বাণিজ্যিক প্রভাব
ট্রাম্পের এই ঘোষণা কার্যকর হলে দুই দেশের মধ্যে বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হুমকির মুখে পড়বে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য, গাড়ি শিল্প এবং পর্যটন খাতে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, স্পেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) সদস্য হওয়ায় এককভাবে দেশটির ওপর পূর্ণ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা ট্রাম্পের জন্য আইনত জটিল হতে পারে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে ন্যাটো (NATO) মিত্রদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফ্রান্স এবং ব্রিটেন এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিলেও স্পেনের ওপর এমন অর্থনৈতিক চাপের নিন্দা জানিয়েছে অনেক দেশ। অন্যদিকে, ইরান এই ঘটনাকে “মার্কিন আধিপত্যবাদের পরাজয়” হিসেবে বর্ণনা করেছে।
হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই স্পেনের ওপর আরোপিত সম্ভাব্য শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশ করা হবে।
অর্থমন্ত্রী স্কট ব্রেসেন্ট স্পেনের সঙ্গে সবধরনের কার্যক্রম বন্ধ করতে যাচ্ছেন।
সূত্র: আলজাজিরা
এমটিআই

