-
রাজপথ ও সংসদ—উভয় মাঠেই শক্ত অবস্থানে থাকবে এনসিপি: নাহিদ ইসলাম
ঢাকা | ১ মার্চ, ২০২৬
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র কেন্দ্রীয় নেতা ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ঘোষণা করেছেন যে, দেশের আগামী রাজনীতিতে এনসিপি কেবল একটি পক্ষ নয়, বরং রাজপথ এবং সংসদ—উভয় জায়গাতেই সবচেয়ে শক্তিশালী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে। আজ বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক ছাত্র-জনতার সংহতি সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বক্তব্যের মূল সুর: দ্বি-মুখী লড়াই
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, এনসিপি কেবল নির্বাচনের জন্য নয়, বরং জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য রাজনীতি করছে। তিনি বলেন,
”আমরা ফ্যাসিবাদের শিকড় উপড়ে ফেলতে রাজপথে ছিলাম, এখনো আছি। কিন্তু রাষ্ট্র সংস্কারের পূর্ণতা পেতে হলে সংসদীয় রাজনীতিতেও আমাদের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। রাজপথে আন্দোলনের তেজ আর সংসদে যুক্তির লড়াই—এই দুইয়ের সমন্বয়েই নতুন বাংলাদেশ গঠিত হবে।”
নির্বাচনী প্রস্তুতি ও কৌশল
সমাবেশে নাহিদ ইসলাম ইঙ্গিত দেন যে, আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে এনসিপি তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে চায়। তিনি দাবি করেন, গত কয়েক দশকের প্রথাগত রাজনীতি দেশের সাধারণ মানুষকে হতাশ করেছে। তাই এনসিপি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে যেখানে রাজপথের লড়াকু সৈনিকরাই নীতি-নির্ধারক হিসেবে সংসদে যাবেন।
প্রধান পয়েন্টসমূহ:
- রাজপথের নিয়ন্ত্রণ: যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখতে জনতাকে নিয়ে মাঠে থাকার অঙ্গীকার।
- সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব: আগামী নির্বাচনে যোগ্য ও শিক্ষিত তরুণদের মাধ্যমে সংসদকে কার্যকর করা।
- সংস্কারের প্রতিশ্রুতি: বিচার বিভাগ, পুলিশ এবং নির্বাচন কমিশন সংস্কারের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা।
রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া
নাহিদ ইসলামের এই কড়া বার্তার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এনসিপি আগামী নির্বাচনে বড় কোনো জোটের অংশ হতে পারে অথবা এককভাবে একটি শক্তিশালী তৃতীয় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মিছিল বের করা হয়, যা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এসময় এনসিপির অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, আপনাদের প্রতি আহ্বান আপনারা ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে যে ভুল করেছিলেন, সেটা এবার করবেন না। দুর্নীতিতে ডুবে যাবেন না।
তিনি বলেন, শুনছি রাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারের মতো শত শত কোটি টাকায় বিক্রি করছেন। অর্থনীতির কঠিন সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে একজন ব্যবসায়ীকে বসানো হয়েছে।
এমএসআই/এমএসএ

