দীর্ঘ ৪০ দিন বন্ধ রাখার পর অবশেষে মুসলিমদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ। ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে কয়েকশ ফিলিস্তিনি পবিত্র এই স্থানে ফজরের নামাজ আদায় করেন।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৯ এপ্রিল, ২০২৬
দীর্ঘ ৪০ দিন বন্ধ রাখার পর অবশেষে মুসলিমদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ। ইরান-ইসরায়েল চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ভোরে শত শত ফিলিস্তিনি পবিত্র এই স্থানে ফজরের নামাজ আদায় করেন।
নামাজের দৃশ্য ও আবেগঘন পরিবেশ
বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই জেরুজালেমের ওল্ড সিটি এলাকায় ফিলিস্তিনিদের ভিড় বাড়তে থাকে। আল-আকসার প্রবেশদ্বারগুলো খুলে দেওয়ার পর কয়েকশ মুসল্লি ভেতরে প্রবেশ করেন। দীর্ঘ বিরতির পর প্রথম ফজরের আজান যখন বেজে ওঠে, তখন এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনেককেই সিজদাবনত হয়ে প্রার্থনা করতে এবং কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।
কেন বন্ধ ছিল আল-আকসা?
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আল-আকসা মসজিদে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। গত ৪০ দিন ধরে জুমার নামাজসহ সব ধরনের ইবাদত সেখানে কার্যত বন্ধ ছিল, যা নিয়ে মুসলিম বিশ্বের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতি ও বিধিনিষেধ
মসজিদ খুলে দেওয়া হলেও ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী প্রবেশদ্বারে কড়া নজরদারি রাখছে। বর্তমানে শুধু নির্দিষ্ট বয়সসীমার ফিলিস্তিনিদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে ৪০ দিন পর মসজিদটি উন্মুক্ত হওয়াকে বড় বিজয় হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
এক ফিলিস্তিনি মুসল্লি সংবাদ সংস্থাকে বলেন:
“৪০ দিন আমরা আমাদের পবিত্র স্থান থেকে দূরে ছিলাম। আজ আবারও এখানে সিজদা দিতে পেরে যে শান্তি অনুভব করছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।”
বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া
আল-আকসা উন্মুক্ত করার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। ওআইসি (OIC) এবং আরব লীগ এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও ভবিষ্যতে যেন কোনো অজুহাতে ইবাদতে বিঘ্ন ঘটানো না হয়, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরদারি দাবি করেছে।
জেরুজালেমের গ্র্যান্ড মুফতি জানিয়েছেন, আসন্ন দিনগুলোতে মুসল্লিদের সংখ্যা আরও বাড়বে এবং আল-আকসার পবিত্রতা রক্ষায় তারা সর্বদা সচেষ্ট থাকবেন।
সংক্ষিপ্ত নোট: আল-আকসা মসজিদ মুসলিমদের কাছে তৃতীয় পবিত্রতম স্থান। আঞ্চলিক উত্তেজনার মাঝেও এটি খুলে দেওয়া শান্তি প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

