ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হামলার অজুহাতে টানা অষ্টম দিনের মতো অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে পবিত্র আল-আকসা মসজিদ। শুক্রবার, ৬ মার্চ রমজানের তৃতীয় জুমার নামাজ আদায়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ছিল ইসরায়েলি পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
জেরুজালেম: ইরানের সম্ভাব্য হামলার অজুহাত দেখিয়ে টানা অষ্টম দিনের মতো অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে পবিত্র আল-আকসা মসজিদ। গতকাল শুক্রবার (৬ মার্চ, ২০২৬) পবিত্র রমজান মাসের তৃতীয় জুমার নামাজ আদায়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইসরায়েলি পুলিশ ও প্রশাসন। ফলে আল-আকসার প্রাঙ্গণে উপস্থিত হতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন হাজারো মুসুল্লি।
নিরাপত্তার অজুহাতে কঠোর কড়াকড়ি
ইসরায়েলি প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে আকাশপথে হামলার হুমকির কারণে ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে’ তারা এই কড়াকড়ি আরোপ করেছে। আল-আকসা মসজিদের চারপাশের প্রবেশপথগুলোতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়। বিশেষ করে পশ্চিম তীর এবং গাজা থেকে আসা ফিলিস্তিনিদের জন্য প্রবেশপথগুলো পুরোপুরি সিল করে দেওয়া হয়েছিল।
জুমার নামাজে বাধা
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার ভোর থেকেই ওল্ড সিটির প্রতিটি মোড়ে সশস্ত্র ইসরায়েলি পুলিশ মোতায়েন ছিল। নির্দিষ্ট বয়সসীমার নিচে কাউকে মসজিদে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এমনকি অনেক বয়স্ক মুসুল্লিকেও লাঠিপেটা করে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে আল-আকসা মসজিদের ভেতরের বিশাল চত্বরটি রমজানের অন্যতম প্রধান জুমায়ও ছিল প্রায় জনশূন্য।
রাস্তায় নামাজ ও বিক্ষোভ
মসজিদে প্রবেশে ব্যর্থ হয়ে শত শত ফিলিস্তিনি আল-আকসার বাইরের রাস্তা এবং চেকপোস্টের কাছেই জুমার নামাজ আদায় করেন। নামাজের পর তারা এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, ধর্মীয় ইবাদতের ওপর রাজনৈতিক ও সামরিক অজুহাত চাপিয়ে দিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে ইসরায়েল।
মানবাধিকার সংগঠনের উদ্বেগ
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এই পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলছে, রমজানের মতো পবিত্র মাসে ধর্মীয় উপাসনালয়ে বাধা দেওয়া চরম উস্কানিমূলক কাজ। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার দোহাই দিয়ে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ধর্মীয় অধিকার কেড়ে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

