কুয়াকাটা বিমানবন্দর স্থাপনের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রাইভেট কোম্পানি যদি সেখানে ফ্লাইট অপারেট করতে চায়, আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সেখানে তাকে অবকাঠামো যতটুকু সম্ভব তৈরি করে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করব। তবে অবশ্যই যাচাই বাচাইয়ের ভিত্তিতে আমাদের এটি করতে হবে।
পটুয়াখালীর সাগরকন্যা কুয়াকাটাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে এবার আকাশপথের দুয়ার খুলে দিচ্ছে সরকার। কুয়াকাটায় বিমানবন্দর স্থাপন এবং সেখানে বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোর (প্রাইভেট এয়ারলাইনস) ফ্লাইট পরিচালনার পথ প্রশস্ত করতে বড় ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বেসরকারি কোম্পানিগুলো এগিয়ে এলে সরকার সেখানে প্রয়োজনীয় সব অবকাঠামো গড়ে দেবে।
বেসরকারি খাতের জন্য অবারিত সুযোগ
সম্প্রতি কুয়াকাটা বিমানবন্দর প্রকল্পের অগ্রগতি সংক্রান্ত এক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগাতে হলে দ্রুত এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন:
”যদি বেসরকারি কোনো কোম্পানি কুয়াকাটায় নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করতে আগ্রহী হয়, তবে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সেখানে রানওয়ে, টার্মিনালসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো যতটুকু সম্ভব তৈরি করে দেওয়ার চেষ্টা করব।”
যাচাই-বাছাই ও স্বচ্ছতার নিশ্চয়তা
তবে এই সুযোগ যেন তেন ভাবে দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেছেন সরকারপ্রধান। তিনি জানান, যেকোনো কোম্পানিকে এই সুবিধা দেওয়ার আগে তাদের সক্ষমতা, নিরাপত্তার মান এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিবিড়ভাবে ‘যাচাই-বাছাই’ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, উন্নয়নের প্রতিটি পদক্ষেপে স্বচ্ছতা এবং দেশের স্বার্থ রক্ষা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
কেন এই গুরুত্ব?
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কুয়াকাটায় বিমানবন্দর স্থাপিত হলে ঢাকা থেকে মাত্র ৪০-৫০ মিনিটে পৌঁছানো সম্ভব হবে সমুদ্র সৈকতে। বর্তমানে সড়কপথে দীর্ঘ সময় লাগার কারণে অনেক বিদেশি পর্যটক কুয়াকাটা ভ্রমণে নিরুৎসাহিত হন। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে:
- পর্যটন বিপ্লব: কুয়াকাটা হবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান পর্যটন হাব।
- অর্থনৈতিক গতি: স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং হোটেল-মোটেল ব্যবসায় জোয়ার আসবে।
- বিনিয়োগ বৃদ্ধি: অবকাঠামোগত নিশ্চয়তা পেলে দেশি-বেশি বড় বড় কোম্পানি কুয়াকাটায় বিনিয়োগে আগ্রহী হবে।
স্মার্ট কানেক্টিভিটির পথে বাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, কেবল সড়ক বা রেলপথ নয়, আকাশপথের নেটওয়ার্ককেও সাধারণ মানুষের নাগালে নিয়ে আসা হবে। কুয়াকাটা বিমানবন্দর হবে সেই আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি অন্যতম মাইলফলক।
সরকারের এই ঘোষণায় এরই মধ্যে দেশের এভিয়েশন খাতে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অনেক বেসরকারি এয়ারলাইনস কুয়াকাটায় বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে।
দ্য কারেন্ট নিউজ ২৪ (The Current News 24) | উন্নয়ন ও সম্ভাবনার পথে নির্ভীক কলম

