প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সংশোধন আনা হয়েছে, যাতে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, সাক্ষীর নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল প্রমাণ ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে শিগগিরই একটি বিশেষ সেল গঠন করা হবে, যা সাইবার বুলিং ও অনলাইন হয়রানির বিরুদ্ধে কাজ করবে।
ডিজিটাল যুগে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পর্দার আড়ালে থেকে যারা সাইবার বুলিং ও হয়রানি চালায়, তাদের দমনে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে শিগগিরই একটি ‘বিশেষ সেল’ গঠন করা হচ্ছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
অনলাইন হয়রানির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীদের হেনস্তা ও সাইবার অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে প্রস্তাবিত এই বিশেষ সেলটি মূলত সাইবার বুলিং এবং অনলাইনে নারীদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার মতো অপরাধগুলো সরাসরি পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরোধ করবে। এর ফলে হয়রানির শিকার নারীরা দ্রুত ও সরাসরি প্রতিকার পাবেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বড় পরিবর্তন
শুধু প্রশাসনিক নয়, আইনি কাঠামোর আমূল সংস্কারের কথাও জানান তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে। এই সংশোধনের মূল লক্ষ্যগুলো হলো:
- ডিজিটাল প্রমাণের স্বীকৃতি: এখন থেকে মামলার বিচারে ডিজিটাল প্রমাণ বা ইলেকট্রনিক তথ্যকে শক্ত দলিল হিসেবে গ্রহণ করা হবে।
- সাক্ষীর সুরক্ষা: যারা ন্যায়বিচারের স্বার্থে সাক্ষ্য দেবেন, তাদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
- দ্রুততম বিচার: দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে যেন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়, আইনে সেই প্রক্রিয়াকে আরও জোরালো করা হয়েছে।
নিরাপদ হবে ভার্চুয়াল জগৎ
উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে নারী সমাজের অগ্রযাত্রা অনস্বীকার্য। ভার্চুয়াল জগতে নারীদের অবাধ ও নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতেই এই আইন সংশোধন এবং বিশেষ সেল গঠন করা হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কেউ পার পাবে না; প্রতিটি অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা হবে।”
সচেতন মহলের প্রতিক্রিয়া
সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মী ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরাসরি নজরদারি করা হলে প্রশাসনিক গাফিলতি কমবে এবং অপরাধীরা কঠোর বার্তার সম্মুখীন হবে। বিশেষ করে যারা লোকলজ্জার ভয়ে অভিযোগ করতে পারেন না, তাদের জন্য এই বিশেষ সেল হবে এক ভরসার আস্তানা।
দ্য কারেন্ট নিউজ ২৪ (The Current News 24) | প্রগতির পথে নির্ভীক সংবাদ

