গত ১৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে ৯৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত হামের কারণে ৯ শিশুর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে ৭১১ জন শিশুর শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: ১৯ দিনে ৯৪ শিশুর মৃত্যু, জরুরি সতর্কবার্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা তারিখ: ৩ এপ্রিল, ২০২৬
দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। গত ১৯ দিনে সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS)। তবে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত ৯ শিশুর মৃত্যু সরাসরি হামের কারণে হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। বাকিদের মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সংক্রমণের বর্তমান চিত্র
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিন ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে সারা দেশে ৫ হাজার ৭৯২ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৭১১ জনের শরীরে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আক্রান্তদের মধ্যে বড় একটি অংশ ঢাকা বিভাগের। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধু ঢাকাতেই ৩১৮ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলেও সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি পদক্ষেপ
পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
-
সারা দেশে সকল পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সব ধরনের ছুটি (নৈমিত্তিক ও অর্জিত) পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে।
-
যেসব শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) থেকে বাদ পড়েছে, তাদের দ্রুত খুঁজে বের করে টিকা দেওয়ার জন্য বিশেষ ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ শুরু হচ্ছে।
-
উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে হামের জন্য পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও পরামর্শ
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত পুষ্টিহীনতা এবং সময়মতো টিকা না নেওয়ার কারণে হাম প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে হওয়ায় আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
প্রধান লক্ষণসমূহ:
-
তীব্র জ্বর এবং শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ ওঠা।
-
কাশি, সর্দি এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়া।
-
মুখের ভেতর সাদাটে দাগ (কপ্লিক স্পট)।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানিয়েছেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ, শিশুর জ্বরের সাথে শরীরে দানা দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে আসুন। ৯ মাস এবং ১৫ মাস বয়সী শিশুদের হামের টিকা দেওয়া নিশ্চিত করুন।”

