মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা: চার দিনে বাংলাদেশ থেকে ১৩১ ফ্লাইট বাতিল, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ৩ মার্চ, ২০২৬
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পাল্টা-পাল্টি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের প্রভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের আকাশপথ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সাতটি দেশ তাদের আকাশসীমা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করায় ঢাকা থেকে রেকর্ড সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। গত চার দিনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মোট ১৩১টি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো।
আকাশসীমা বন্ধের প্রভাব
২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। নিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে এই দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া ইউরোপ ও আমেরিকার অনেক ফ্লাইটও এই আকাশপথ এড়িয়ে চলায় সময় ও খরচ দুটোই বহুগুণ বেড়ে গেছে।
যাত্রী ভোগান্তি চরমে
সরেজমিনে শাহজালাল বিমানবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, হাজার হাজার রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও সাধারণ যাত্রী টার্মিনালে অপেক্ষা করছেন। অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ পর্যায়ে থাকায় তারা বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। বিশেষ করে কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক জানান:
”মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় আমরা বাধ্য হয়ে ফ্লাইটগুলো বাতিল করছি। এটি সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক সংকট। আকাশসীমা পুনরায় না খোলা পর্যন্ত বিকল্প রুট ব্যবহার করে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট পরিচালনার চেষ্টা চলছে।”
ভবিষ্যৎ শঙ্কা
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু ফ্লাইট বাতিল নয়, বরং জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে টিকিটের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। অনেক এয়ারলাইনস বর্তমানে বিকল্প হিসেবে দীর্ঘ পথ (Longer route) ব্যবহার করছে, যা ফ্লাইট অপারেশন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বর্তমানে কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, আবুধাবি, শারজাহ, দুবাই ছাড়া অন্যান্য রুটে ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে।
এএসএস/এমটিআই

