পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির আমেজ পুরোপুরি কাটেনি। এখনও অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদ উদযাপন করছে। তাই, কর্মস্থলে ফেরেনি বহু মানুষ। কিন্তু দেশের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে অন্য সবকিছুর চেয়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই দায়িত্ব থেকে ঈদের ছুটি শেষ হতেই অফিস শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথম কর্মদিবসেই টানা প্রায় ১১ ঘণ্টা অফিস করেছেন তিনি।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের রেশ এখনো কাটেনি চারদিকে। রাজধানীসহ সারাদেশে এখনো উৎসবের আমেজ বিদ্যমান। প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটাতে এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে সরকারি-বেসরকারি খাতের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনো কর্মস্থলে ফেরেননি। তবে এই আনন্দমুখর পরিবেশের মধ্যেও এক অনন্য ও দায়িত্বশীল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ব্যক্তিগত উৎসব বা বিশ্রামের চেয়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিয়ে ঈদের ছুটি শেষ হতে না হতেই পূর্ণ উদ্যমে কাজে ফিরেছেন তিনি।
প্রথম দিনেই বিরতিহীন ব্যস্ততা
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার ছিল ঈদের ছুটির পর প্রথম কার্যদিবস। এদিন সকাল থেকেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শুরু হয় কর্মতৎপরতা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্ধারিত সময়ের আগেই অফিসে উপস্থিত হন এবং রাত পর্যন্ত টানা প্রায় ১১ ঘণ্টা বিরতিহীনভাবে দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করেন। দীর্ঘ এই সময়ে তিনি রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে সই করেন, যা ছুটির কারণে অপেক্ষমাণ ছিল।
গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও নীতিনির্ধারণ
অফিসের প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী শুধুমাত্র ফাইলে সই করেই ক্ষান্ত হননি; বরং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেন। বিশেষ করে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত খুঁটিয়ে দেখছেন। তাঁর এই একাগ্রতা আমাদের স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, জনসেবা ও দেশ গঠনে কোনো প্রকার শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না।”
প্রশাসনে নতুন গতির সঞ্চার
প্রধানমন্ত্রীর এমন নিরলস কর্মতৎপরতা সচিবালয়সহ প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। ছুটি কাটিয়ে ফেরা কর্মকর্তাদের মাঝেও দেখা গেছে বাড়তি কাজের অনুপ্রেরণা। প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারপ্রধানের এই কঠোর পরিশ্রমী মনোভাব নিচের স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝেও সময়ানুবর্তিতা ও দায়িত্ববোধ বাড়িয়ে তুলবে।
জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া
উৎসবের আমেজ বিসর্জন দিয়ে দেশ ও দশের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর পরিশ্রম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, নেতৃত্বের এই দৃঢ়তা ও কর্মনিষ্ঠা দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও ত্বরান্বিত করবে এবং সাধারণ মানুষের সমস্যার দ্রুত সমাধানে সহায়ক হবে।
ঈদের আমেজ পুরোপুরি না কাটলেও প্রধানমন্ত্রীর এই দায়িত্বশীলতা দেশবাসীকে এক শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে—ব্যক্তিগত উৎসবের চেয়ে দেশ ও জাতির সেবাই তাঁর কাছে পরম ধর্ম।

