মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র আকার ধারণ করায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।
চট্টগ্রাম মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করায় এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে চট্টগ্রামের আকাশপথে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তৈরি হয়েছে স্থবিরতা। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, নিরাপত্তাজনিত কারণে আজ আরও ৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
ফ্লাইট বাতিলের চিত্র বিমানবন্দর সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী এয়ারলাইনসগুলো তাদের পূর্বনির্ধারিত সূচি পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে। মূলত আকাশসীমা ব্যবহার নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ বাতিল হওয়া ৫টি ফ্লাইটের মধ্যে অধিকাংশ ছিল মধ্যপ্রাচ্যগামী বিভিন্ন জনপ্রিয় রুটের।
যাত্রীদের চরম ভোগান্তি আকস্মিক ফ্লাইট বাতিলের কারণে বিপাকে পড়েছেন শত শত যাত্রী। বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমিকরা, যারা ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন, তারা পড়েছেন সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায়। বিমানবন্দরে এসেও অনেককে ফিরে যেতে দেখা গেছে। এয়ারলাইনসগুলোর পক্ষ থেকে রিফান্ড বা বিকল্প সময়ে টিকিট দেওয়ার কথা বলা হলেও, কর্মস্থলে সময়মতো পৌঁছাতে না পারার দুশ্চিন্তা কাটছে না যাত্রীদের।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন নিয়মানুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাত্রী নিরাপত্তা আমাদের কাছে সবার আগে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং এয়ারলাইনসগুলোর সাথে আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি।”
বিমানের শিডিউল বিপর্যয় শুধুমাত্র ফ্লাইট বাতিলই নয়, যেসব ফ্লাইট এখনও চালু আছে সেগুলোর ক্ষেত্রেও দেখা দিচ্ছে দীর্ঘ বিলম্ব। রুট পরিবর্তন করে দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হওয়ায় জ্বালানি খরচ ও সময় দুটোই বাড়ছে। এর ফলে টিকিট সংকটের পাশাপাশি ভাড়াও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরে না আসা পর্যন্ত চট্টগ্রামের এই আন্তর্জাতিক রুটে স্বাভাবিক চলাচল কবে নাগাদ শুরু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।

