সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেওয়ার কোনো নজির গত সাত দিনে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
ঢাকা
বিগত সাত দিনে দেশের কোথাও সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো নজির পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বরং অনেক ক্ষেত্রে পরিবহন মালিকরা নির্ধারিত হারের চেয়েও কম ভাড়া নিচ্ছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
আজ সোমবার (১৬ মার্চ) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের বর্তমান পরিবহন পরিস্থিতি ও ভাড়া নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।
মন্ত্রীর বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ
সেতুমন্ত্রী জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে মন্ত্রণালয়ের বিশেষ টিম এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশের বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কঠোর মনিটরিং চালিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আমাদের কাছে আসা রিপোর্ট অনুযায়ী, কোথাও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। বরং অনেক রুটে দেখা গেছে, যাত্রী আকর্ষণে মালিকরা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও ১০-২০ টাকা কম নিচ্ছেন এবং তারা সেটা খুশিতেই করছেন।”
মালিক ও যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া
মন্ত্রীর এই বক্তব্যের সমর্থনে পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের মূল্য স্থিতিশীল থাকা এবং সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ হওয়ায় তারা বাড়তি ভাড়া নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করছেন না। অনেক ক্ষেত্রে যাত্রী সেবা নিশ্চিত করতে তারা ছাড় দিচ্ছেন। অন্যদিকে, সাধারণ যাত্রীদের মধ্যেও এই ইতিবাচক পরিবর্তনের ফলে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।
কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে
ভাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও নজরদারি শিথিল করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “গত সাত দিনের এই স্বস্তিদায়ক চিত্র যেন বজায় থাকে, সেজন্য বিআরটিএ-র মোবাইল কোর্ট সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবে। কোনো পরিবহন যদি নিয়মের বাইরে গিয়ে যাত্রী হয়রানি করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভবিষৎ পরিকল্পনা
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম এবং ই-টিকেটিং ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হলে ভাড়া নিয়ে এই স্বচ্ছতা আরও স্থায়ী হবে। এতে করে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ থাকবে না।

