দেশে চলমান জ্বালানি তেল সংকটের মধ্যে পেট্রোল ও অকটেনের ডিপো পর্যায়ের সরবরাহ দ্রুত উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।
দেশে চলমান জ্বালানি তেল সংকটের মধ্যে পেট্রোল ও অকটেনের ডিপো পর্যায়ের সরবরাহ দ্রুত উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি বলছে, ডিপো থেকে সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
সংকটের চিত্র ও পাম্প মালিকদের উদ্বেগ
গত কয়েকদিন ধরেই দেশের বিভিন্ন এলাকার পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর বাইরের জেলাগুলোতে অনেক পাম্পে ‘তেল নেই’ বোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আজ এক বিবৃতিতে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সংগঠনটির নেতারা জানান:
- সরবরাহ ঘাটতি: অনেক ডিপো থেকে চাহিদামতো তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না।
- গ্রাহক ভোগান্তি: দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক যানবাহন চালক তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
- আর্থিক ক্ষতি: পাম্প সচল রাখতে না পারায় ডিলার ও মালিকরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ছেন।
দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পেট্রোল ও অকটেনের পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও বিতরণ প্রক্রিয়ায় ধীরগতির কারণে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। তারা অবিলম্বে বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন) এবং সংশ্লিষ্ট ডিপোগুলোকে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল করার নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
”জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হলে পরিবহন খাতের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। আমরা চাই অবিলম্বে ডিপো পর্যায়ের সকল বাধা দূর করে সরবরাহ স্বাভাবিক করা হোক।”
— অ্যাসোসিয়েশন প্রতিনিধি
আগামী দিনের আশঙ্কা
যদি দ্রুত সরবরাহ উন্মুক্ত করা না হয়, তবে সামনের দিনগুলোতে পরিবহন ধর্মঘট বা অচলবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন। পাম্প মালিকরা বলছেন, তারা কেবল তেল বিক্রির মাধ্যম; যদি ওপর মহলে (ডিপো) তেল আটকে থাকে, তবে তাদের কিছুই করার থাকে না।
পাম্প মালিকদের এই সংগঠনটি জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী ও ট্যাংকার মালিকদের বড় একটি অংশ তাদের সংগঠনের সদস্য। মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ওএফএ/এমএআর

