চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে এবারই প্রথম হেলিকপ্টার ব্যবহার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের আস্তানা নির্মূল ও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে বড় ধরনের অভিযানে নেমেছে যৌথবাহিনী। সোমবার সকাল থেকেই সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়। তবে এবারের অভিযানের সবচেয়ে বড় চমক ছিল আকাশপথে হেলিকপ্টারের ব্যবহার।
আকাশ ও পথে সাঁড়াশি আক্রমণ
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই জঙ্গল সলিমপুরের আকাশসীমায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারকে টহল দিতে দেখা যায়। দুর্গম পাহাড়ের খাঁজে লুকিয়ে থাকা অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করতে এবং কেউ যেন পালিয়ে যেতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই আকাশপথের নজরদারি। চট্টগ্রামে অপরাধ দমনে কোনো অভিযানে হেলিকপ্টার ব্যবহারের ঘটনা সম্ভবত এটাই প্রথম।
অভিযানের মূল কারণ
দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল এবং অবৈধ পাহাড় কাটার আখড়া হিসেবে পরিচিত। প্রশাসনের বারবার হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও সেখানে গড়ে উঠেছিল এক বিশাল ‘অন্ধকার সাম্রাজ্য’। মূলত নিচের লক্ষ্যগুলো সামনে রেখে আজকের এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে:
- পাহাড়ে আত্মগোপন করে থাকা তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার।
- অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার।
- সরকারি জমি দখল করে নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ।
- পাহাড় কাটা রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ।
জনমনে স্বস্তি ও আতঙ্ক
হঠাৎ হেলিকপ্টারের গর্জন এবং বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে সাধারণ বাসিন্দারা অপরাধীদের দৌরাত্ম্য কমার আশায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন, অন্যদিকে পাহাড়ের গহিনে বসবাসরতরা অভিযানের তীব্রতা দেখে আতঙ্কে রয়েছেন।
এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “জঙ্গল সলিমপুরের ভূ-প্রকৃতি অত্যন্ত জটিল। অপরাধীরা সহজেই গহিন পাহাড়ে পালিয়ে যেতে পারে। তাই এবার আমরা কোনো ঝুঁকি নেইনি। আকাশপথ এবং স্থলপথ—উভয় দিক থেকেই এলাকাটি ঘিরে ফেলা হয়েছে।”
বর্তমান পরিস্থিতি
দুপুর পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, যৌথবাহিনী পাহাড়ের বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালাচ্ছে। হেলিকপ্টার থেকে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে নিচে অবস্থানরত টহল দলগুলোকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতি বা গ্রেপ্তারের সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

