মার্চ মাসের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে জেট ফুয়েলের দাম। গত মাসের তুলনায় ১৭ টাকা ২৯ পয়সা বাড়িয়ে প্রতি লিটার তেলের দাম ১১২ টাকা ৪১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থনীতি প্রতিবেদক, ঢাকা: আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতার মধ্যেই দেশের বাজারে জেট ফুয়েলের (বিমানের জ্বালানি) দাম একলাফে অনেকটা বাড়ানো হয়েছে। মার্চ মাসের জন্য নির্ধারিত নতুন দরে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম গত মাসের তুলনায় ১৭ টাকা ২৯ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে।
নতুন নির্ধারিত মূল্য
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারি মাসে জেট ফুয়েলের যে দাম ছিল, তা থেকে ১৭ টাকা ২৯ পয়সা বাড়িয়ে মার্চ মাসের জন্য প্রতি লিটারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১১২ টাকা ৪১ পয়সা। আজ থেকেই এই নতুন দর কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
বিপাক ও অস্থিরতা
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেট ফুয়েলের দাম লিটারে ১৭ টাকার বেশি বৃদ্ধি পাওয়াটা অস্বাভাবিক। এর ফলে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী এয়ারলাইন্সগুলোর পরিচালনা ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে।
- ভাড়ায় প্রভাব: জ্বালানির দাম বাড়লে সাধারণত এয়ারলাইন্সগুলো টিকিটের ওপর ‘ফুয়েল সারচার্জ’ বাড়িয়ে দেয়। ফলে সাধারণ যাত্রীদের জন্য বিমানের টিকিট কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।
- এয়ারলাইন্স খাতের সংকট: এমনিতেই ডলার সংকট ও খুচরা যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধির কারণে চাপে আছে দেশীয় বিমান সংস্থাগুলো। জেট ফুয়েলের এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি তাদের জন্য নতুন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেন এই মূল্যবৃদ্ধি?
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মানের পরিবর্তনের সমন্বয় করতেই এই মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রতি মাসেই আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সংগতি রেখে জেট ফুয়েলের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
যাত্রীদের উদ্বেগ
মার্চ মাস থেকে পর্যটন মৌসুম এবং পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে অনেকে আগাম টিকিট বুকিংয়ের পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু জেট ফুয়েলের দাম বাড়ার খবরে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। ঘরমুখো মানুষের জন্য আকাশপথের যাত্রা এখন নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিকল্প শিরোনাম:
- জেট ফুয়েলের দাম একলাফে ১১২ টাকা: আকাশপথে যাতায়াত হচ্ছে আরও ব্যয়বহুল
- মার্চের শুরুতে বড় ধাক্কা: ১৭ টাকা বাড়ল জেট ফুয়েলের দাম

