পাবনায় ডিবি পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ৩টি বিদেশি রিভলবার ও ওয়ান শুটারগানসহ যুবক গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা | ২০ এপ্রিল, ২০২৬
পাবনা জেলাকে অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ রাখার অঙ্গীকার নিয়ে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এক দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) ভোরের আলো ফোটার আগেই পাবনা পৌর এলাকার আরিফপুর হাজিরহাট এলাকায় চালানো এই বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ অলি হোসেন (৩২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গোপন তথ্যে চিরুনি অভিযান,
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে ওই এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের আনাগোনা বেড়েছিল—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির একটি চৌকস দল মাঠে নামে। সোমবার ভোররাতে যখন চারপাশ নিস্তব্ধ, ঠিক তখনই ডিবি পুলিশের টিমটি আরিফপুর হাজিরহাট এলাকায় অবস্থান নেয়। সেখানে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পৃথক দুটি স্থানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে গোয়েন্দা পুলিশের জালে ধরা পড়ে অলি হোসেন।
অস্ত্রের বড় চালান উদ্ধার করল
গ্রেপ্তারকৃত অলি হোসেনের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা অস্ত্রের তালিকা দেখে খোদ কর্মকর্তারাও বিস্মিত। তার কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে:
- #৩টি আধুনিক বিদেশি রিভলবার
- #১টি দেশীয় ওয়ান শুটারগান
- #২ রাউন্ড তাজা গুলি
বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্ধারকৃত বিদেশি রিভলবারগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী এবং জননিরাপত্তার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ ছিল। এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র অলি হোসেন কেন এবং কার নির্দেশে মজুত করেছিল, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
কে এই অলি হোসেন?.
গ্রেপ্তারকৃত অলি হোসেন (৩২) পাবনা পৌর সদরেরই বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে অস্ত্র রাখার কথা স্বীকার করলেও এর পেছনের মূল হোতাদের বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশের ধারণা, আসন্ন কোনো বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড বা অপরাধমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য এই অস্ত্রগুলো আনা হয়েছিল।
আইনি ব্যবস্থা ও পুলিশের কঠোর অবস্থান
পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অলি হোসেনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে এবং প্রয়োজনে রিমান্ডে নিয়ে অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, “পাবনার মাটিতে কোনো অস্ত্রধারী বা অপরাধীর ঠাঁই হবে না। জননিরাপত্তা রক্ষায় এমন অভিযান আগামী দিনগুলোতে আরও জোরদার করা হবে।”
এলাকাবাসীর স্বস্তি
ভোররাতের এই সফল অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পুলিশের এমন তৎপরতা অব্যাহত থাকলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে।

