গাজীপুরের শ্রীপুরে স্বামীর হাতে স্ত্রী হত্যার ঘটনা ঘটেছে। হত্যার পর মরদেহ উদ্ধার করতে প্রতিবেশীকে ফোন দিয়ে অনুরোধ করেন ঘাতক স্বামী। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে তালাবদ্ধ ঘর থেকে ঝর্ণা আক্তার (১৬) নামে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গাজীপুরের শ্রীপুরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ উদ্ধারের জন্য প্রতিবেশীকে ফোন করার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘাতক স্বামীর ফেলে যাওয়া তালাবদ্ধ ঘর থেকে ঝর্ণা আক্তার (১৬) নামে ওই কিশোরী গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রীপুরের একটি ভাড়া বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী বসবাস করতেন। গতকাল রাতে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী তার স্ত্রীকে হত্যা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার পর ঘাতক স্বামী ঘরটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যান।
প্রতিবেশীকে সেই রহস্যময় ফোন
পালিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর ঘাতক স্বামী জনৈক এক প্রতিবেশীকে ফোন করেন। ফোনে তিনি জানান যে, তার স্ত্রী ঘরে মৃত অবস্থায় পড়ে আছে এবং মরদেহটি যেন উদ্ধার করা হয়। এই অদ্ভুত অনুরোধ শুনে প্রতিবেশী দ্রুত ওই বাড়ির মালিক ও অন্যান্যদের জানান। পরে ঘরের জানলা দিয়ে তারা ঝর্ণার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
পুলিশের অভিযান ও উদ্ধার
খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের তালা ভেঙে ঝর্ণা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
আইনি পদক্ষেপ
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সংবাদমাধ্যমকে জানান:
”আমরা খবর পাওয়ার পরপরই মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছি। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।”
এলাকায় শোকের ছায়া
মাত্র ১৬ বছর বয়সী ঝর্ণার এমন করুণ মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

