রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী | ৯ এপ্রিল, ২০২৬
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ২৭ জন শিশুকে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যা স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের মধ্যে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
হাসপাতালের বর্তমান চিত্র
রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মৃত চার শিশুর বয়সই পাঁচ বছরের নিচে। তারা সবাই তীব্র জ্বর এবং শরীরে হামের স্পষ্ট লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। বর্তমানে হাসপাতালের সংক্রামক ব্যাধি ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। নতুন করে আরও ২৭ জন শিশু ভর্তি হওয়ায় শয্যা সংকটের পাশাপাশি সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন নার্স ও চিকিৎসকরা।
চিকিৎসকদের বক্তব্য
হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান জানান, “এ বছর হামের প্রকোপ অন্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি। যে শিশুরা মারা গেছে, তাদের অধিকাংশেরই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম ছিল এবং সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা যায়নি।” তিনি আরও জানান, ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে অনেকেরই নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা দেখা দিচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কতা ও টিকা কর্মসূচি
রাজশাহীর সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় হামের ক্লাস্টার বা গুচ্ছ সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যেসব শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) থেকে বাদ পড়েছে, তারাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন:
-
শিশুর শরীরে জ্বর ও লালচে দানা দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
-
আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখুন।
-
হামের টিকা দেওয়া না থাকলে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
রাজশাহীতে হামের এই সংক্রমণ প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন আক্রান্ত শিশুদের স্বজনরা।
সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ: ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় হামের মতো ভাইরাসজনিত রোগের বিস্তার দ্রুত ঘটছে। জনসচেতনতা ও শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

