-
-
মানিকগঞ্জে বালুমহালের ম্যানেজারকে গুলি ও কুপিয়ে নৃশংস হত্যা
নিজস্ব প্রতিবেদক, মানিকগঞ্জ | প্রকাশ: ৩ এপ্রিল, ২০২৬
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তেওতা বালুমহালের ম্যানেজার মিরাজ হোসেনকে (৩৫) গুলি করে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার দুর্গম আলোকদিয়া চরে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মিরাজ হোসেন তেওতা বালুমহালের তদারকির দায়িত্বে ছিলেন। প্রতিদিনের মতো আজ বিকেলেও তিনি আলোকদিয়া চরে বালু উত্তোলনের কাজ দেখভাল করছিলেন। বিকেল ৫টার দিকে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত অতর্কিতভাবে তাঁর ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রথমে তাঁকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং পরবর্তীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। চরের নির্জন এলাকায় এই অতর্কিত হামলায় আশেপাশে থাকা শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
পুলিশ ও প্রশাসনের বক্তব্য
খবর পেয়ে শিবালয় থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান:
”প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ বা পূর্ব শত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। আমরা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছি এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে অভিযান শুরু হয়েছে।”
এলাকায় আতঙ্ক
দিনের আলোতে এমন দুর্ধর্ষ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আলোকদিয়া চর ও পার্শ্ববর্তী তেওতা এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানান, বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। মিরাজ হোসেনের হত্যাকাণ্ডের পর বালুমহাল সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহতের পরিবারে শোক
মিরাজ হোসেনের মৃত্যুর খবর পৌঁছালে তাঁর পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে এলাকা। পরিবারের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি, তবে পুলিশ জানিয়েছে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

