কুসংস্কার না কি জয়ের ছক? ফাইনালের আগে ‘অপয়া’ হোটেল বদলাল ভারত।
ক্রীড়া প্রতিবেদক | আহমেদাবাদ বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটা এবার আর হাতছাড়া করতে চায় না টিম ইন্ডিয়া। আহমেদাবাদে হাইভোল্টেজ ফাইনালের আগে মাঠের প্রস্তুতির পাশাপাশি মাঠের বাইরের প্রতিটি ছোটখাটো বিষয়েও সতর্ক ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) ও টিম ম্যানেজমেন্ট। এমনকি জয় নিশ্চিত করতে এবার ‘কুসংস্কার’ বা ‘লাক’ ফ্যাক্টরকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে তারা। যার অংশ হিসেবে ফাইনালের ঠিক আগে নির্ধারিত হোটেল বদলে ফেলেছে রোহিত শর্মার দল।
কেন এই ‘অপয়া’ আতঙ্ক? ক্রিকেট বিশ্বে অনেক সময় নির্দিষ্ট কিছু মাঠ বা হোটেলকে দলের জন্য ‘অপয়া’ হিসেবে গণ্য করা হয়। আহমেদাবাদের যে হোটেলে আগে ভারতের থাকার কথা ছিল, সেখানে অতীতে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হারের তেতো অভিজ্ঞতা রয়েছে দলের। সেই স্মৃতি যাতে ফাইনালের মানসিকতায় কোনো প্রভাব না ফেলে, সেজন্যই মূলত এই ত্বরিত সিদ্ধান্ত। বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু নিজেদের পক্ষে রাখতেই এই ‘লাকি’ হোটেলের খোঁজ।
বোর্ডের বিশেষ সতর্কতা টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে ক্রিকেটারদের মানসিক স্বস্তি সবচেয়ে জরুরি। বিসিসিআই-এর এক কর্মকর্তা জানান, “আমরা কোনো ফাঁক রাখতে চাই না। প্রস্তুতিতে যেমন কোনো কমতি নেই, তেমনি পরিবেশগত দিক থেকেও আমরা খেলোয়াড়দের সেরাটা দিতে চাই।”
আহমেদাবাদে উৎসবের আমেজ এদিকে আহমেদাবাদ এখন ক্রিকেট জ্বরে কাঁপছে। ফাইনালের আগে অনুশীলনে ঘাম ঝরাচ্ছেন বিরাট কোহলি, হার্দিক পান্ডিয়ারা। হোটেল বদলের খবরটি জানাজানি হওয়ার পর সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে ভাগ্যের সহায়তাও প্রয়োজন, আর ভারত সেটাই নিশ্চিত করছে।
এখন দেখার বিষয়, এই নতুন ঠিকানা ভারতের জন্য শিরোপার ভাগ্য নিয়ে আসে কি না। কোটি কোটি ভক্তের চোখ এখন আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের দিকে।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামকে ঘিরেও নানা কুসংস্কার ছড়িয়ে পড়েছে ভারতীয় ক্রিকেটে। অনেকেই একে ভারতের জন্য ‘অপয়া’ মাঠ বলেও উল্লেখ করছেন। তবে সূর্যকুমার যাদবদের সামনে সুযোগ রয়েছে এই বদনাম মুছে দেওয়ার। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ফাইনাল জিতে শিরোপা হাতে নিয়ে সেই তকমা ঝেড়ে ফেলার সুযোগ তাদের সামনে।
এফএইচএম/

