সামান্য করলা চুরির অপবাদ: স্ত্রীকে গাছে বেঁধে স্বামীর পৈশাচিক উল্লাস, রৌমারীতে তোলপাড়!
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম | ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
মাঠের একমুঠো করলা কি একজন মানুষের জীবনের চেয়েও দামি? কুড়িগ্রামের রৌমারীতে এক পাষণ্ড স্বামীর কাণ্ড দেখে এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। জমি থেকে করলা চুরির তুচ্ছ অভিযোগে নিজের সহধর্মিণী ছালেহা বেগমকে (৪০) প্রকাশ্য দিবালোকে গাছের সঙ্গে বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছেন স্বামী। পৈশাচিক এই নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানালো যে দৃশ্য
ঘটনাটি ঘটেছে রৌমারী উপজেলার প্রত্যন্ত এক গ্রামে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কলহ দীর্ঘদিনের। তবে সোমবার সকালে সেই বিরোধ চরম আকার ধারণ করে যখন স্বামী অভিযোগ তোলেন, ছালেহা বেগম জমি থেকে করলা চুরি করে বিক্রি করেছেন। এই সামান্য সন্দেহের বশবর্তী হয়ে উন্মত্ত স্বামী নিজের স্ত্রীকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির উঠোনের একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে শক্ত করে বাঁধেন। এরপর শুরু হয় লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো।
ভাইরাল ভিডিওতে আর্তনাদ
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ছালেহা বেগম বাঁচার জন্য আর্তনাদ করছেন এবং বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করছেন। কিন্তু পাষণ্ড স্বামীর মনে দয়ার উদ্রেক হয়নি; বরং উপস্থিত লোকজনের সামনেই তিনি বীরদর্পে স্ত্রীকে আঘাত করতে থাকেন। ভিডিওটিতে আশপাশের কিছু মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলেও, কাউকেই সেই অসহায় নারীকে উদ্ধারে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি—যা সমাজের মানবিক অবক্ষয়কেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।
পুলিশের তৎপরতা ও আইনি ব্যবস্থা
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। রৌমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং নির্যাতনের শিকার ছালেহা বেগমকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত স্বামী ঘটনার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
জনমনে ক্ষোভ ও স্থানীয়দের ভাষ্য
স্থানীয়রা জানান, সামান্য সবজি নিয়ে এমন পৈশাচিক আচরণ তারা আগে কখনো দেখেননি। ঘটনার শিকার ছালেহা বেগমের এক প্রতিবেশী বলেন, “আমরা চিৎকার শুনে গিয়েছিলাম, কিন্তু লোকটা এতই হিংস্র ছিল যে কাছে যাওয়ার সাহস পাইনি। সামান্য করলার জন্য কেউ নিজের বউকে এভাবে মারে?”
মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা
মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনাকে নারীর প্রতি চরম অবমাননা এবং মানবাধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন। কুড়িগ্রামের সচেতন মহল মনে করছে, যদি এই পাষণ্ড স্বামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হয়, তবে এই ধরণের পারিবারিক সহিংসতা আরও বাড়বে।
দ্য কারেন্ট নিউজ ২৪ (The Current News 24) | অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিচ্ছবি

