জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৩০ আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা হবে আজ। এরইমধ্যে গ্রেপ্তার ছয় আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে আজ। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করবেন।
ট্রাইব্যুনালে ৬ আসামি, এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা
রায় ঘোষণা উপলক্ষে কারাগারে থাকা ছয় আসামিকে আজ সকাল ১০টার দিকে কড়া পাহারায় প্রিজন ভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। মামলার মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে গ্রেপ্তারকৃত এই ছয়জনকে আদালতে তোলা হয়েছে। বাকি ২৪ জন এখনও পলাতক রয়েছেন।
আজকের এই রায়কে কেন্দ্র করে হাইকোর্ট এলাকা এবং ট্রাইব্যুনালের আশপাশে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির বিশেষ টহল দল মোতায়েন রয়েছে। প্রবেশপথে প্রতিটি ব্যক্তিকে তল্লাশি করে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে।
বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার ও বিশ্ববাসীর নজর
জুলাই বিপ্লবের আইকন আবু সাঈদের এই বিচার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও আদালতে উপস্থিত হয়েছেন।
প্রেক্ষাপট: বুক পেতে দেওয়া সেই সাহসী প্রাণ
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পুলিশের বন্দুকের নলের সামনে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। সেই অবিস্মরণীয় দৃশ্যটিই ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থানে রূপ দিয়েছিল।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী
-
অভিযুক্ত: মামলার মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হাসিবুর রশীদসহ বেশ কয়েকজন পদস্থ কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্য রয়েছেন।
-
সাক্ষ্যগ্রহণ: দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। গত ২৭ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য ‘অপেক্ষমাণ’ (CAV) রাখা হয়েছিল।
-
প্রসিকিউশন: ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভিডিও ফুটেজ ও সাক্ষীদের বয়ান অনুযায়ী অপরাধ স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং তারা আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিষয়ে আশাবাদী।
আবু সাঈদের পরিবারের প্রতিক্রিয়া
রায়ের অপেক্ষায় থাকা আবু সাঈদের বৃদ্ধ বাবা মুকুল হোসেন বলেন, “আমার ছেলে ন্যায়ের পথে প্রাণ দিয়েছে। আজ যেন সেই খুনিদের উপযুক্ত শাস্তি হয়, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়।”
আজকের এই রায় কেবল একটি খুনের বিচার নয়, বরং জুলাই বিপ্লবের আদর্শিক ও আইনি স্বীকৃতির এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: পলাতক ২৪ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানিয়েছে, তাদের অনুপস্থিতিতেই আজ রায় ঘোষণা করা হবে।

