ঢাকাWednesday , 8 April 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ক্যাম্পাস
  5. খেলা
  6. ধর্ম
  7. প্রবাস
  8. বিনোদন
  9. মতামত
  10. রাজনীতি
  11. সারাদেশ
  12. স্বাস্থ্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

উন্নত জীবনের নেশায় টুর্নামেন্ট মাঝপথে ফেলে পালালেন ৭ ফুটবলার

Link Copied!

২০০৮ সালের পর থেকে দীর্ঘ সময় আফ্রিকান ফুটবলের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতা আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে অংশ নেয়নি ইরিত্রিয়া। এর কারণে হিসেবে ফুটবলারদের দল থেকে পালিয়ে অন্য দেশে আশ্রয় চাওয়ার প্রবণতাকে উল্লেখ করা হয়। ১৮ বছর পর সেই নিজেদের অবস্থান বদলেছে ইরিত্রিয়া সরকার। ২০২৭ আফকনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে তারা বাছাইপর্ব খেলছে। কিন্তু আবারও একই বিপত্তিতে পড়েছে দেশটি, দেশের বাইরে খেলার সুযোগ পেয়েই পালিয়েছেন ৭ ফুটবলার।

দীর্ঘ ১৮ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের মূল মঞ্চে ফেরার চেষ্টা করছিল পূর্ব আফ্রিকার দেশ ইরিত্রিয়া। ২০২৭ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (আফকন) বাছাইপর্বে অংশ নিয়ে তারা বিশ্বকে জানান দিতে চেয়েছিল তাদের প্রত্যাবর্তনের কথা। কিন্তু মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরে বড় পরাজয়ের মুখে পড়ল দেশটি। জাতীয় দলের সাতজন ফুটবলার টুর্নামেন্টের মাঝপথেই দল ছেড়ে পালিয়ে অন্য দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও পলায়ন

২০০৮ সালের পর থেকে ইরিত্রিয়া তাদের ফুটবল দলকে খুব একটা দেশের বাইরে পাঠাত না। এর প্রধান কারণ ছিল—সুযোগ পেলেই ফুটবলারদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়া। দীর্ঘ সময় পর সেই অবস্থান থেকে সরে এসে সরকার জাতীয় দলকে আফকন বাছাইপর্ব খেলার অনুমতি দেয়।

কূটনৈতিক ও ক্রীড়া সূত্রে জানা গেছে, বিদেশের মাটিতে বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলতে গিয়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় ফাঁকি দিয়ে সাতজন ফুটবলার উধাও হয়ে যান। ধারণা করা হচ্ছে, তারা ইতিমধ্যে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। উন্নত জীবনযাত্রা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে মুক্তি পেতেই তারা এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন।

পুরনো ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

ইরিত্রিয়ার ফুটবলে এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট থেকে তাদের খেলোয়াড়দের পালিয়ে যাওয়ার লম্বা তালিকা রয়েছে:

  • ২০০৯: কেনিয়ায় খেলতে গিয়ে পুরো ১২ সদস্যের দল উধাও হয়ে গিয়েছিল।

  • ২০১২: উগান্ডায় ১৭ জন খেলোয়াড় এবং দলের চিকিৎসক নিখোঁজ হন।

  • ২০১৯: উগান্ডায় একই টুর্নামেন্ট চলাকালীন আরও ৭ জন খেলোয়াড় পালিয়ে যান।

ইরিত্রিয়া সরকারের অবস্থান ও অনিশ্চয়তা

সরকার এবার কড়া নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দলকে বাইরে পাঠিয়েছিল। কিন্তু এই গণ-পলায়নের ঘটনায় ইরিত্রিয়া সরকার অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। ফুটবল বোদ্ধাদের ধারণা, এই ঘটনার পর দেশটি আবারও দীর্ঘ সময়ের জন্য আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিতে পারে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশটির উদীয়মান প্রতিভারা, যারা কেবল খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের প্রমাণ করতে চেয়েছিল।

ভবিষ্যৎ প্রভাব

বাছাইপর্বে সাতজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে হারানো ইরিত্রিয়ার জন্য বড় প্রযুক্তিগত ধাক্কা। একইসাথে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা (ফিফা) এবং আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (CAF)-এর কাছেও এটি বড় একটি নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বিষয়ক ইস্যু হিসেবে দাঁড়িয়েছে।


সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ: ইরিত্রিয়ার নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা এবং কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের হাত থেকে বাঁচতে অ্যাথলেটরা প্রায়ই আন্তর্জাতিক ইভেন্টগুলোকে ‘পালানোর সুবর্ণ সুযোগ’ হিসেবে ব্যবহার করেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।