বরিশালের গৌরনদীতে তেলবাহী একটি লরিতে আগুন লেগেছে। তবে চালকের তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে ফিলিং স্টেশন। রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গৌরনদী উপজেলার নাহার সিনেমা হল সংলগ্ন সেন্ট পিটার ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
বরিশালের গৌরনদীতে একটি তেলবাহী লরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লরিটি চালিয়ে ফিলিং স্টেশন থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ায় এক ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে পাম্প ও আশপাশের জনপদ। রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গৌরনদী উপজেলার নাহার সিনেমা হল সংলগ্ন ‘সেন্ট পিটার ফিলিং স্টেশন’-এ এই রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে সেন্ট পিটার ফিলিং স্টেশনে তেল খালাস করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল পেট্রোলবাহী একটি লরি। এসময় হঠাৎ করেই লরিটিতে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা তেলের লরিতে ছড়িয়ে পড়ে। পাম্পের ভেতরে তেলের স্তূপ ও লরিতে থাকা বিপুল পরিমাণ জ্বালানির কারণে যেকোনো সময় বিকট বিস্ফোরণের আশঙ্কা তৈরি হয়। এতে পাম্পের কর্মচারী ও আশপাশের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
চালকের অবিশ্বাস্য সাহসিকতা
উপস্থিত সবাই যখন প্রাণভয়ে ছোটাছুটি করছিলেন, তখন অসীম সাহসিকতার পরিচয় দেন লরি চালক। আগুনের শিখা লরিটিকে গ্রাস করতে থাকলেও তিনি দ্রুত চালকের আসনে বসেন এবং জলন্ত লরিটি চালিয়ে পাম্পের সীমানা থেকে নিরাপদ দূরত্বে মেইন রোডের পাশে নিয়ে যান। তার এই তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তায় বড় ধরনের বিস্ফোরণ থেকে রক্ষা পায় ফিলিং স্টেশন এবং পাশে থাকা সিনেমা হলটি।
ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা
খবর পেয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আধঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে লরির সামনের অংশ ও কেবিন পুড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
”আগুন লাগার পর চালক যদি লরিটি সরিয়ে না নিতেন, তবে পুরো ফিলিং স্টেশন উড়ে যেতে পারত। তার এই সময়োচিত পদক্ষেপ কয়েকশ মানুষের জীবন বাঁচিয়ে দিয়েছে।”
— ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা
হতাহতের খবর
লরিটি সরিয়ে নেওয়ার সময় চালক সামান্য দগ্ধ হলেও বড় ধরনের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা এবং পাম্প কর্তৃপক্ষ চালকের এই বীরত্বপূর্ণ কাজের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটি বা শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
বর্তমানে ওই এলাকায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

