কুড়িগ্রামে হঠাৎ শিলাবৃষ্টিতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। শনিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার কুড়িগ্রাম সদর ও রাজারহাট, চিলমারী, উলিপুরসহ বিভিন্ন উপজেলায় হঠাৎ ১৫ থেকে ২০ মিনিট শিলাবৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির সাথে এই শিলাবৃষ্টি হয়।
কুড়িগ্রাম জেলাজুড়ে হঠাৎ শুরু হওয়া তীব্র শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমন ধান, ভূট্টা ও রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
ঘটনার বিবরণ: প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে কুড়িগ্রাম সদরসহ রাজারহাট, চিলমারী ও উলিপুর উপজেলায় বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির সাথে বড় বড় আকারের শিলা ঝরতে থাকে, যা টানা ১৫ থেকে ২০ মিনিট স্থায়ী হয়। হঠাৎ এই দুর্যোগে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করে।
কৃষকের দুশ্চিন্তা: জেলার রাজারহাট উপজেলার এক কৃষক জানান, “মাঠে ধান ও শাকসবজি রয়েছে। এই সময়ে এত বড় শিলাবৃষ্টি মানেই মরণ কামড়। ১৫-২০ মিনিট যে হারে শিলা পড়েছে, তাতে ফসলের ডগা ভেঙে গেছে এবং ফুল ঝরে গেছে। এখন সারা বছরের খোরাকি নিয়ে আমরা চরম দুশ্চিন্তায় আছি।”
ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা: প্রাথমিকভাবে কুড়িগ্রামের নিচু এলাকার ভূট্টা ক্ষেত এবং আমের মুকুলের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এছাড়া লিচু ও অন্যান্য মৌসুমি ফলের গাছও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, শিলাবৃষ্টির পরপরই তারা মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছেন। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণে ব্লক সুপারভাইজাররা কাজ করছেন।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
মমিনুল ইসলাম বাবু/আরএআর

