বাণিজ্য চুক্তি অপরিবর্তনীয় নয়, প্রয়োজনে হবে সংশোধন: বাণিজ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিগুলো কোনো অনড় বা চিরস্থায়ী বিষয় নয় বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি উল্লেখ করেছেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং সময়ের প্রয়োজনে যেকোনো দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিতে সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজনের পূর্ণ সুযোগ রয়েছে।
চুক্তির নমনীয়তা নিয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য
আজ সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি মূলত উভয় দেশের স্বার্থ রক্ষার একটি কাঠামো মাত্র। বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে বাণিজ্য সহযোগিতা বিদ্যমান, তা গতিশীল। যদি দেখা যায় কোনো চুক্তির নির্দিষ্ট ধারা আমাদের বাণিজ্যিক লক্ষ্য অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বা পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে, তবে আলোচনার মাধ্যমে তা অবশ্যই পরিবর্তন করা যাবে।”
মূল আলোচনার বিষয়বস্তু
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে চুক্তির কার্যকারিতা ও দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। আলোচনার প্রধান দিকগুলো ছিল:
- জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ: দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ব্যবসায়ীদের স্বার্থে যেকোনো চুক্তিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা সরকারের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ।
- দ্বিপাক্ষিক আলোচনা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিদ্যমান সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, যেকোনো সংশোধনীর ক্ষেত্রে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার পথ সব সময় খোলা থাকে।
- ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: বাণিজ্য প্রসারে নতুন নতুন খাত অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে সংযোজন বা বিয়োজনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে।
বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার রফতানি বাজার সম্প্রসারণে বহুমুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার সহজতর করতে এবং শুল্ক বাধা দূর করতে প্রয়োজনে বিদ্যমান চুক্তিগুলোকে আরও আধুনিকায়ন করা হবে। তিনি ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার এমন কোনো অবস্থানে থাকবে না যা দেশের বাণিজ্যিক সক্ষমতাকে সীমিত করে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি আপনার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে একটি খসড়া সংবাদ ফরম্যাটে সাজানো হয়েছে।
নতুন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করতে চায় কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, অবশ্যই নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চান তারা। আগামী দিনে কীভাবে আমেরিকান বিনিয়োগ এই দেশে আসবে সেটার জন্য দুই একটা প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করেছেন আজকে। যে এগুলো দূর করলে আমেরিকান বিনিয়োগের জন্য সেটি সহজতর হবে। বাংলাদেশ একটা উর্বর ভূমি, আমাদের কিছু নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার আছে, যেগুলো দূর করা গেলে তাদের ডেভেলপমেন্ট যেটা আছে সেটা বাংলাদেশের জন্য বাংলাদেশ এলিজিবল হবে।
চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগ না ছড়াতে। আপনারা যদি কোনো নির্দিষ্ট ধারা নিয়ে আপত্তি বা প্রশ্ন দেখেন, আমাদের কাছে উত্থাপন করবেন। আমরা বিষয়টি দেখব। বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য।
এমএম/জেডএস

